ঈদের সেরা ৫ নাটক আমার চোখে

0
564

ছেলেবেলা ঈদের আনন্দ ছিলো সাতদিন দীর্ঘ লম্বা। খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতাম ঈদের নতুন নাটকের জন্য। সেই সময় সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ ছিলো হুমায়ূন আহমদের নাটক আর ইত্যাদি। কবে কোন নাটক দেখাবে তা ভুলে যেতাম আমি। তাই আমার স্কুলের ডায়েরীর পিছনে লিখে রাখতাম ঈদের সময় কোন নাটক কোন দিনে এবং কখন দেখাবে। এই লেখা ও খুব আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করার আনন্দময় সময়গুলো এখন খুব বেশি মিস করি।

এখন ঈদের নাটক কবে দেখাবে তা মনে রাখার জন্য খাতা কলমের দরকার হয় না। এমনকি টেলিভিশনে চোখ রাখতে হয় না। ইউটিউব নামক ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্মেরই সব নাটক দেখে নেয়া যায়। গত কয়েক বছর ঈদে খুব একটা নাটক দেখিনি আমি। হাতেগোনা কয়েকটি দেখা হতো। আর নাটকগুলোর মানও আমার কাছে খারাপ মনে হতো। সেই চিরচেনা দুই নারী-পুরুষের প্রেম, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, দূরে ঘুরতে যাওয়া, ইয়ো ইয়ো কয়েকটা ছেলেমেয়ের ফাজলামো ছাড়া এখনকার নাটকগুলো তেমন কিছু দেখা যায় না।

তবে এবার ঈদে বেশ কয়েকটি ভালো নাটক চোখে পড়েছে। সেই নাটকগুলো দেখে মনে হয়েছে আসলেই আমাদের নাটক হারিয়ে যায়নি। সময়মত আবার ফিরে আসবে। অনেকেই দেখেছি ফেইসবুকে পোষ্ট করে প্রশ্ন করছেন, ‘এবার ঈদে কোন নাটকগুলো ভালো ছিলো বা ইউটিউবে দেখা যাবে’। তাদের জন্য এবার ঈদে আমার চোখে ভালো লাগা নাটকগুলো তুলে ধরা হলো।

এই লেখাটি ঈদের কয়েকদিন পরেই লেখা দরকার ছিলো। কিন্তু সময় না পাওয়া ও অলসতার জন্য লেখা হয়নি।

বিকাল বেলার পাখি:

অভাবের কারণে যদি বাবা-মা আমাদের কিছু না দিতে পারেন, তখন রাগের মাথায় তাদের আমরা কত কথাই বলি। এই কথাগুলো শুনে বাবা-মায়ের চুপ থাকে। উল্টা আমাদের কিছু বলে না। বাবা-মায়েদের অসহায় মুখ ও ভিতরের কষ্টটুকু নিয়ে এই নাটক। যারা বন্ধুর দামি মোবাইল, গাড়ি কিংবা গিটার দেখে, বাবা-মাকে কাছে এই জিনিসগুলো কিনার আবদার করেন। কিন্তু বাবা মা তা দিতে পারেন না। তখন বাবা-মা তা দিতে না পেরে অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকে। সেই সকল ছেলেমেয়েদের অবশ্যই নাটকটি দেখা উচিত। হয়ত নতুন করে ভাবতে শিখাবে এই নাটকটি।

নাটকের সম্পূর্ণ কাহীনিতে বললাম না আর। হাতে ৪০ মিনিট সময় থাকলে এখুনি দেখে ফেলেন এটি।অ্যালেন শুভ্র চমৎকার অভিনয় করেছে। সেই সাথে বাবার চরিত্রে ফজলুর রহমান বাবুর অভিনয় ছিলো দেখার মত। কথা দিচ্ছি ৪০ মিনিট বৃথা যাবে না। আপনাকে ভিন্নভাবে ভাবতে শেখাবে।

তালিকায় সবার প্রথমে আমি রাখবো আদনান আল রাজীবের পরিচালনায় নাটক বিকাল বেলার পাখি। ফারুকীর ভাই-ব্রাদারের ছবিয়াল রি-ইউনিয়নের নাটক ছিলো এটি।

চিকন পিনের চার্জার:

নাম শুনে প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এটি হয়ত কোন ফানি নাটক হবে। কিন্তু মজার পাশাপাশি আমাদের এই সমাজকে চমৎকার একটি ম্যাসেজ দিয়েছে নাটকটি। হুমায়ন সাধু পরিচালনায় এই নাটকটিতে তিনি নিজেও অভিনয় করেছেন। সম্পূর্ণ নাটকটি ক্যামেরা বন্দি করেছেন আয়নাবাজি’র চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান। এই নাটক আমাদের সমাজকে কি ম্যাসেজ দিয়েছে তা বলছি না। নাটকটি দেখে ফেলুন।

২৬ দিন মাত্র:

দীর্ঘদিন পরে জীবনের শেষ সময়ে এসে আমাদের পুরানো স্মৃতিগুলো কতটা আবেগঘন করে তুলতে পারে। সেই চেনা গল্প, সেই হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষ, সেই স্বপ্নগুলো যদি হঠাৎ মাত্র ২৬ দিনের জন্য দেখা পাওয়া যায় কেমন হয়? সাদাকলো এই নাটকটি দেখার সময় মনে হয়েছিলো হয়ত আমি একদিন এরুপ বুড়িয়ে যাব, তখন কি পুরানো স্মৃতিগুলো এভাবে নাড়া দিবে, এভাবে ফিরে আসতে চাইবে?

নাটকের গানের লাইনগুলো এক কথায় হৃদয় ছুয়ে গেছে…

“অনেক অনেক অনেক দিন পর দেখা হয়ে যাবে আমাদের
অনেক অনেক অনেক দিন পর ভুলে যাবো আমাদের ভুল
বিষণ্ণ এক বাতাসে উড়বে আমাদের খোলা চুল
অনেক অনেক অনেক টা পথ আসব ফেলে পিছনে
অনেক অনেক অনেক হাহাকার থাকবে ঝুলে মেঘের ডানাই 
সৃতির কাটা সব সরিয়ে শহরে ফুটবে গোলাপ
অনেক দিন অনেক দিন”

মার্চ মাসে শ্যুটিং:

আয়নাবাজি দেখার পরপর আমি অভিতাভ রেজা চৌধুরীর ভক্ত হয়ে যাই। অপেক্ষা করছিলাম হয়ত আয়নাবাজি সিরিজটি এবার ঈদে ফাটিয়ে দিবে। কিন্তু আয়নাবাজি সিরিজ ঈদের আগে প্রচারণায় যতটা হাইপ তুলেছিলো সেই পরিমান জনপ্রিয়তা পায়নি প্রচারের পরে। আয়নাবাজি সিরিজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে ‘মার্চ মাসে শ্যুটিং’ নাটকটি। পরিচালনা করেছে অমিতাভ রেজা এবং অভিনয়ে ছিলো অপূব ও আয়নাবাজির হৃদি মানে নাবিলা।

নাটকটিতে যুদ্ধে সন্তান হারানো এক মায়ের কান্না আওয়াজ শুনতে পাওয়া যাবে। তবে কাহীনিটি এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা না দেখলে আমি বলে বা লিখে বুঝাতে পারব না।

নাটকটিতে একটি দৃশ্যে যখন রেডিওতে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুনছিলাম তখন আমার গায়ের পরশগুলো দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো।

নোটস:

ভালো মানুষ, ভালো লাগা এবং ভালোবাসা সম্পূণ ভিন্ন এক একটির কাছ থেকে। নাটকটি যেন কিছুটা নিজের ছায়াও খুঁজে পেয়েছিলাম। এই নাটকের মিউজিকটি বেশ ভালো লেগেছে। ইরেশ যাকের , তিশার অভিনয় ও বরাবরের মত চমৎকার লেগেছে।