ঈদ এবং আমি

0
92
ঈদের আগের দিন রাতে মিরপুর এক নম্বর তোলা ছবি।

ঈদের পরে সবার একটাই প্রশ্ন থাকে কেমন কাটলো ঈদের দিন? নিজেকে আমি নিজেই এই প্রশ্ন করলাম। উত্তর পেলাম, হ্যাঁ চমৎকার কেটেছে। যতটা না ভালো কাটবে ভেবেছিলাম তা থেকে অনেক বেশি ভালো কেটেছে।

এই তো কয়েকমাস আগে আমি হতাশ হয়ে যেতাম যে কোন বিষয় নিয়ে। সহজে যেন মনে হতো আমার কিছু নেই । হতাশ হলে যা আর কি। তবে একটা বিষয় শিখতে পারলাম। আমি চাইলেই আমার হতাশ দূর করতে পারি। যদি নিজেকে মনকে আমি বিশ্বাস করাতে পারি “মন আমি আসলে হতাশ নই। ভালো আছি” তাহলে খুব সহজে হতাশা দূর করা যাবে। কিভাবে কাজটি আমি করেছি তা বিস্তারিত কোন এক ব্লগে লিখব।

এবার ঈদে তাই সব হতাশাকে দূর করে দিয়েছি। পুরা ঈদের সময়টুকু ঘুরে বেড়িয়ে কাটালাম। আমি সুখী মানুষ। বেঁচে আছি এবং নিশ্বাস নিতে পারছি এর মানে আমি আসলেই ভালো আছি। ভালো থাকার মূল মন্ত্র মূলত বেঁচে থাকাই।

19575975_10208563443835417_520523220_n
ঈদের দিনে গিয়েছিলাম ধানমন্ডিতে অবস্থিত “Crimson Cup Coffee House”। চমৎকার কপি শপটি কফি লাভারদের পছন্দ হতে পারে।

এবার ঈদের চমৎকার কিছু এক্সপেরিয়ান্স হয়েছে। তার মধ্যে উলেখযোগ্য হলো বিবাহের জন্য কোন পাত্রের ইন্টারভিউ নেয়া। পারিবারিক বিষয় তাই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত লিখছি না। একটা সময় ব্লগিংয়ে পরিবারের নানা বিষয় তুলে ধরতাম। কিন্তু ইদানিং কেন যেন নিজের ব্যক্তিগত লাইফ সম্পর্কে তুলে ধরতে ভালো লাগে না। দিন দিন কি আমি আত্নকেন্দ্রীক হয়ে যাচ্ছি, নাকি অনলাইন লাইফ সম্পর্কে সচেতন হয়ে যাচ্ছি?

মানুষের আচরণ অদ্ভুত। আমরা কি আসলেই কয়েক ঘণ্টা কথা বলে একটা মানুষকে চিনতে পারব? পারিবারিক-ভাবে যখন বিবাহ হয় তখন পাত্র-পাত্রীকে কয়েক মিনিট দেখেই পরিবারের লোকজন বিয়ের কথা ঠিক করে ফেলে। কিন্তু যাদের বিয়ে, যারা সারা জীবন একত্রে থাকতে তাহাদের মতামতের মূল্য নেই। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে তো মতামতের মূল্য দেয়ার হার অনেক কম। তবে এটা ভালো নাকি খারাপ সেই তর্কে যাব না। তবে মাঝে মাঝে প্রশ্ন থেকেই যায়। কি অদ্ভুত আমরা তাই না? আমাদের ইচ্ছাগুলো অন্য কেউ ঠিক করে দিবে? তাদের মত করে আমাদের চলতে হবে।

মুরুব্বিদের আলোচনায় দেখলাম বিয়ের বাজারে সরকারি চাকুরিজীবি ছেলেদের চাহিদা শীর্ষে রয়েছে। তারপর আর্মি, ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা। আহারে আমার মত তথাকথিত তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক লেখকদের যে কি হবে?

ঈদের দিনে আরেকটি বিষয় খুব ভালো করে লক্ষ্য করলাম ঢাকাবাসীর বিনোদনের জায়গা নেই। সবাই এখন বিনোদন খুঁজে পায় নামিদামি খাবারের দোকানগুলোতে। ব্যাপারটি এখন এরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, যদি প্রশ্ন করা হয়, ঈদে কি করলা?
উত্তর: কেএফসিতে বন্ধুদের সাথে খেয়েছি।
পয়েলা বৈশাখে কি করলা?
উত্তর: বিএফসিতে খেয়েছি।
২৬ মার্চ কি করলা?
উত্তর:পিজাহাটে অফার ছিলো খেতে গিয়েছি।

সবগুলো উৎসবের দিনে খাওয়াদাওয়া জন্য খাবার দোকানের যাওয়া ছাড়া তেমন বিনোদনের উপায় পাচ্ছে না ঢাকাবাসী।বিনোদনের সাথে যুক্ত হয় সেলফি তুলে তা ফেইসবুকে পোষ্ট করা। আমিও নগরবাসীদের মধ্যে থাকা একজন নাগরিক। ফলে সবগুলো গুনও আমার মধ্যে রয়েছে।

আচ্ছা আপনি এই পোষ্টটি পড়ে থাকলে মন্তব্যে জানাবেন কিভাবে আমরা আরও চমৎকার ভাবে ছুটি দিনগুলো কাটাতে পারি আনন্দ ও বিনোদনের সাথে?