সকালে হাঁটা এবং মেডিটেশনের গল্প

0
214

দীর্ঘ দিন পরে আজ সকালে হাঁটাহাঁটি করতে বের হলাম। দীর্ঘদিন সময়টা ২-৩ বছর হতে পারে। সাধারণত আমার ঘুম থেকে উঠতে ইদানিং দেরি হয়। মাঝে মাঝে ভোরে ঘুম থেকে উঠলেও হাঁটাহাঁটি করতে যাওয়া হয় না। আজ মূলত বাধ্য হয়ে যেতে হলো। কেন বাধ্য হয়ে যেতে হলো কারণটা হলো….

প্রতিদিন সকালবেলা ভাইয়া হাঁটতে বের হয়। এক সপ্তাহে ধরে সকালে ভাইয়ার হাঁটার সঙ্গী হিসেবে যুক্ত হয়েছে আমার মেজ ভাগিনা সাবি। ক্লাস ফাইভে পড়ুুয়া সাবি মামা বাড়ি এসেছে ছুটি কাঁটাতে। প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে ভাইয়ার সাথে এক দেড় কিলোমিটার হাঁটাহাঁটি করে সে।

গত কয়েকদিন ধরে সাবি আমাকে বলছে মামা আপনি কিন্তু হাঁটতে বের হবেন। আমরা কষ্ট করে হাঁটি আর আপনি আরামে ঘুমান। উত্তরে আমি হেঁসে বলি, সকালে তো ঠিকভাবে উঠতে পারি না। তুই ডেকে দিস। সাবি বলে, আচ্ছা ঠিক আছে ডেকে দিব।

পরপর দুইদিন সাবি আমাকে ডেকে তুললেও হাঁটাতে নিয়ে যেতে পারেনি। বৃহস্পতিবার রাতে সাবি আমাকে হুমকি দিয়েছে শুক্রবার যে করেই হউক না কেন আমাকে ডেকে তুলে নিয়ে যাবে সকালে। প্রয়োজনে আমাকে ধাক্কা ধাক্কি করে বিছানা থেকে তুলবে। যদি এতে কাজ না হয় তাহলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিবে।

গতকাল রাতে আমার ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় ২টা বেজেছিলো। তাই ধরেই নিয়েছিলাম আজ সকালে ঘুম থেকে উঠতে ১০টার বেশি বেজে যাবে। কিন্তু ভোর ৫.১০ মিনিটের দিকে কে যেন আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে। ঘুম ঘুম চোখে দেখি সাবি আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে। আমি কোন পাত্তা দিচ্ছি না দেখে লাগাতার ধাক্কা ও জোরে জোরে মাথায় ঝাকানো শুরু করলো। এই কাহীনি করলে কি আর ঘুমিয়ে থাকা যায়। উঠে পড়লাম। আমি উঠে বসেছি তা দেখে সাবি খিলখিল করে হাসা শুরু করলো।

সকালে ফজর নামাজ পড়ে সাবি, আমি, ভাইয়া হাঁটা শুরু করলাম ব্যোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্দেশ্য। আমাদের বাসায় পাশেই বোটানিক্যার গার্ডেন। হেঁটে যেতে ১০ মিনিটের মত সময় লাগে। ৫.৩০ নাগাদ পৌঁছলাম ব্যোটানিক্যাল গার্ডেনে। ঢুকতেই কাকে পাখি ডাকাডাকির শব্দ এলো। আমি পকেটে করে হেডফোন নিয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হাঁটতে হাঁটতে গান শুনব। কিন্তু পাখি শব্দগুলো শুনে কানে হেডফোন দিলাম না। গান থেকে আমার ভোরে পাখির ডাকগুলো শুনতে ভালো লাগছিলো। একটু পর পর হিম শীতল বাতাস এসে আমার শরীরটা যেন শীতল করে দিচ্ছে। আহা! কত দিন এত সুন্দর সকাল উপভোগ করি না।

ব্যোটানিক্যাল গার্ডেনে সকালে অনেকেই হাঁটতে আসেন। বেশিভাগ বয়স্ক মানুষজন। তরুণদের সংখ্যা খুবই কম। কয়েক জন আন্টিকে দেখলাম আম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আম খুঁজিতেছে। কাচা আমের এই মৌসুমে হাঁটাহাঁটির সময় দুই একটি আম ফ্রি পেলে মন্দ কি?

পুরা গার্ডেনটি চক্কর দিলাম তিনজন মিলে। সবুজ গাছগুলো যেন আমাকে বলছে, এখন থেকে প্রতিদিন যেন আমি।

গার্ডেনের শেষ প্রাপ্তে ইন্টার্ন হাউজিংয়ের গেটের কাছেই একটি ছোট খালের মত আছে। তার ঠিক উপরে গোল আকৃতির একটি স্থাপনা আছে। সেখানে দেখলাম অনেকজন মানুষ একত্রে গোল হয়ে ব্যায়াম করছে। তাদের পাশে আরেকটি গোলাকার স্থাপনায় আমি বসে পড়লাম। মোবাইল বের করে কানে হেডফোন দিয়ে মেডিটেশন শুরু করলাম। অদ্ভুত ব্যাপার টানা ৩০মিনিটি আমর মেডিটেশনের ভুবনে হারিয়ে গেলাম। মেডিটেশন শেষ নিজেকে কিছুটা হালকা হালকা লাগতেছিলো। সিরিয়াস মুডে এই প্রথম আমার মেডিটেশন করা। এখন থেকে প্রতিদিন মেডিটেশন করব কিছু সময়ের জন্য।

হাঁটাহাঁটি শেষ করে চা পান করে তিনজন মিলে বাড়ি ফিলে এলাম। এসেই মনে হলো ব্লগে কতদিন লিখি না। অনেকদিন ধরে ভাবছি প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখব। আজ থেকে তা শুরু হয়েছে গেলো। এখন থেকে প্রতিদিন কিছু না কিছু ব্লগে লিখব। দেখি উৎসাহটা কয়দিন ধরে রাখতে পারি।

যারা সকালে হাঁটাহাঁটি করেন না তারা একদিন চেষ্টা করে দেখতে পারেন। ভোরে ৩০ মিনিট হাঁটুন দেখবে চমৎকার লাগবে। এখন থেকে আমি প্রতিদিন সকালে হাঁটার চেষ্টা করব ধুক্কু চেষ্টা না, হাঁটব ই………যদি চেষ্টা বলি তাহলে কখনো তা করা হবে না।