মন ভালো করার ভুবন মাঝি

0
41

কোন কারণ ছাড়াই মন মেজাজ কয়েকদিন ধরে কেমন যেন থিতিয়ে ছিলো। মনকে শান্ত করার জন্য ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিলাম “মন ভালো করে দেয়ার মত কয়েকটি মুভির নাম সাজেশন করুন…”। এতে প্রায় ২৫ জন ফেইসবুক বন্ধু নানা মুভির নাম সাজেশন দিলো। চমৎকার সব মুভির নাম পেলাম। সবার দেয়া নামের মধ্যে থেকে অনেক মুভি আমার দেখা ছিলো। সেগুলো দেখা হয়নি সেগুলো লিস্ট করে রেখেছি একে একে দেখব বলে।

মন ভালো করার জন্য চলে গেলাম স্টার সিনেপ্লেক্সে ভুবন মাঝি দেখতে। এক মাস ধরে আমি মুভিটি দেখার অপেক্ষা করছি। অপেক্ষার করার পিছনে কারণ দুইটি। এক নং কারণ হলো: মুভির পরিচালক  ফাখরুল আরেফিন খান ভাইয়া আমার স্কুলের সিরিয়ার বড় ভাই। ওনি মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯১ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন । দুই নং কারণ হলো: আমি মুক্তিযুদ্ধের মুভি দেখতে প্রচণ্ড পছন্দ করি।

মুভি শুরু হলো। প্রথম ৪০ মিনিট ২০১৩, ২০০৪ এবং ১৯৭০ সালের ঘটনা একত্রে একটির পর একটি দেখলাম। একটু কনফিউশনে পড়ে গেলাম কি হচ্ছে? একই সাথে কি তিন প্রজন্ম তুলে ধরা হলো এই মুভিতে। কিন্তু মুভি শেষ ২০ মিনিট আমাকে অবাক করলো। অন্ধকার হলে মাঝে মুভি শেষে যখন লাইট জ্বলে উঠলো আমি লক্ষ্য করলাম আমার চোখ বিন্দু বিন্দু জল জমে আছে।

মুভি শেষে সিট থেকে উঠে দেখলাম আমার ঠিক ৪ ধাপ উপরের সিটে বসা মধ্যবয়স্ক এক আন্টি চোখ মুছতেছে। অন্ধকারের বুঝতে পারলাম না ওনার চোখে জল আছে কিনা। তবে আমার বুঝতে বাকি রইলো না আমার মত এই মুভি ওনাকেও কাঁদিয়েছে।

মুভি কাহিনী বিস্তারিত কিছু বললাম না। শুধু এইটুকু বলব মুভির শেষ ৪০ মিনিট আপনার চোখের পলক ফেলতে ইচ্ছা করবে না।

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়  এবং অপর্ণা ঘোষের অভিনয় এক কথায় ভালো লেগেছে। সেই সাথে চমৎকার অভিনয় করেছে মাজনুন মিজান।

গানগুলো ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে ‘আমি তোমারই নাম গাই’ মুভি দেখার পর থেকে আমার পিসি ও মোবাইল এই গানই শুনছি বার বার।

মুভি দেখার পরে হল থেকে বের হওয়ার পরে দেখা হলো ফাখরুল আরেফিন খান ভাইয়া সাথে। কথা বলার পরে ওনি বললেন, তুসিন দোয়া করিও যেন পরবর্তীতে আরও ভালো  কাজ উপহার দিতে পারি।

ভাইয়া অনেক শুভ কামনা রইলো। পরবর্তীতে যেন আরও ভালো মুভি আসে আপনার হাত ধরে অপেক্ষায় রইলাম আমি।

এই স্বাধীনতার মাসে পরিবারের সাথে হলে গিয়ে মুভিটি দেখার অনুরোধ রইলো। গানটির লিংকটি: