সময় নামক লুপ বনাম হতাশা

0
12

সময়টাকে ধরে রাখার চেষ্টা করা আসলে বৃথাচেষ্টা ছাড়া আর কিছু  না। সময় নামক মহা যন্ত্রটা হেঁটে চলবে তা নিয়মে। প্রোগ্রামিং ভাষায় একটা ব্যাপার আছে তা হলো লুপ। সময়টাই যেন এরুপ। চক্রাকারে ঘুরছে তো ঘুরছে। আমরা এই ঘুরার মধ্যেই চলছি। সময়গুলো সাথে যদি কেউ মানিয়ে নিতে না পারে তাহলে তাকে পতিত হতে হয় সময়ের বাহিরে এক জগতে। তাকে আমরা তুলনা করতে পারি ব্যাকহোলের সাথে কিংবা অজানা কোন এক মহাবিশ্বের সাথে। আচ্ছা তাহলে কি সময়ের সাথে মানিয়ে চলা গেলে আমাদের গিরগিটির মত বেঁচে থাকতে হবে। আসলেই কি তাই?

আচ্ছা এবার একটি চিন্তা করুক তো আপনার বয়স ৩৫ বছর। আপনার স্কুল জীবনের যে বন্ধুটা আপনার সবচেয়ে প্রিয় ছিলো যে কি আপনার সাথে আছে? আপনার সাথে কি যোগাযোগ রাখছে? বন্ধুটাকে কি সেই আপনার মত করে খুঁজে পান?

কিংবা আপনার ভালোবাসার মানুষটার কথা ধরা যাক, যে কিনা একদিন আপনার নিশ্বাশের শব্দ ছাড়া ঘুমাতে পারতো না। যে কিনা আপনার ভয়েস শোনা ছাড়া একটা দিন পার করতে পারত না । আপনাকে একদিন না দেখলে অস্থির হয়ে যেতো। সেই মানুষটা যখন আপনাকে ছেড়ে চলে যায় বা আপনি ছেড়ে দেন সেই সময়টাকে কি পূর্বের মত থাকে? কিংবা দীর্ঘ দিন যদি আপনার সাথে থাকে  তাহলে যে আগের মত করে থাকে? সেই সময়গুলো মত করে? নাকি সময় নামব লুপের সাথে পাল্লা দিয়ে পরিবর্তন হচ্ছে।

click

জানি আপনার উত্তর হবে  হ্যা। আসলেই পরিবর্তন হচ্ছে। তবে কিছু ভাগ্যবান মানুষ থাকতে পারে যাদের উত্তর ‘না’ হতে পারে। তবে বেশিরভাগ মানুষের উত্তর হবে ‘হ্যা’ হবে এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।

তাহলে আমাদের করনীয় কি হতে পারে। আমরা কি সময়ের সাথে পরিবর্তন হব? কিন্তু কয়জন সেটা মেনে কিতে পারে? পরিবর্তনের সময়টাতে সবাই কম বেশি মানসিক ডিসপ্লেশনে ভোগেন।

খুব ছোটবেলা যখণ অসুস্থ হতাম তখন বাবা আমাকে হাসপাতলে নিয়ে যেতো। আমার কাছে মনে হতো তখন একা একা আমি হাসপতালে কখনো আসতে পারব না। কিন্তু ঠিক ২০-২২ বছর পর আমার বাবাকে নিয়ে আমার হাসপতালে যেতে হয়েছে। ঠিক তখন বাবার পক্ষে একা হাসপাতালে আসে সম্ভব নয়। কি সুন্দর লুপ তাই না?

সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়াটা আসলে সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমরা অনেকের তা করতে ব্যর্থ হই। নিজেদেরকে একটা গন্ডির বাহিরে চিন্তা করতে পারে নি। যে  মানুষটা আজ আপনার কেয়ার নিচ্ছে, আপনি ঘুমাচ্ছে কিনা খোঁজ নিচ্ছে একটা সময় সে থাকবে না। তখন আপনাকেই তা করতে হবে। যতদ্রুত মানিয়ে নিতে পারবেন ততো দ্রুতই জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাবেন।

তা আমার কথা শুনে আপনার মনে হতে পারে বাহ! লিখতে যত সহজ কাজটা করতে ঠিক কতটা সোজা নয়। আসলেই তাই ! সত্যিই সহজ নয়। নিজের মন আর বিবেককে নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের সাধারণ চিন্তার মধ্যে বেশ কষ্টকর কাজ। তবে হ্যা তা কিন্তু সম্ভব।

ছোটবেলা যখন স্কুলে যেতাম সেই সময় সকালে ঘুম ঘুম চোখে আমি নাস্তা করতে চাইতাম না। তখন আম্মা জোর করে খাওয়াতে চাইতো। আমি তখন বিরক্ত হয়ে বললাম, আম্মা দেখো আর খাওয়া সম্ভব নয়। মন চাইছে না।

আম্মা তখন হেসে বলতো, আরে মনের নাম মহাশয়, যাহা বলে তাহা সয়।

আম্মার এই কথাটা মানে তখন আসলেই বুঝতাম না। তবে আর ২৩ বছর বয়সে এসে তা হারে হাতে বুঝতে পারছি। আসলেই তাই আমাদের মন নামক মহাশয়টাকে আমার যা বলব তাই করবে কিন্ত তার জন্য প্রয়োজন নিজেদের মানসিক প্রস্তুতি।

o-DEPRESSION-facebook

চারপাশে পরিবেশ যখন আমাদের মত করে না চলে কিংবা সময়টা আমাদের মত করে চিন্তা না করে এগিয়ে যায় বা পিছয়ে যায় তখন আমরা হতাশ হই। আর এই হতাশ আমাদের দিনগুলোকে অলস্য করে তুলে। অলস দিন পার করাটাই যেন শ্রেয় হয়ে উঠে। সেই সময় আমরা প্রতিনিয়ত চিন্তা করি কিভাবে এই হতাশা থেকে মুক্তি পাব। কিভাবে?

কিছু মানুষ থাকে লজ্জ্বায় কাউকে নিজের হতাশার কথা বলে না। নিজে নিজে হতাশ হতে থাকে। এটা যে কি মাত্রায় ভয়ংকর তা হয়ত সেই মানুষটা জানে না। আরেক ধরনের মানুষ থাকে যারা হতাশা চারপাশে বলে বেড়ায়। আমি হতাশা আমি শেষ কেউ আমারে বাঁচা রে!! এটা ভালো নয়। এতে করে চারপাশে হ্যাপি থাকা মানুষগুলোও হতাশায় যুক্ত হয়। তবে খুব কাছের মানুষগুলোর কাছে হতাশার গল্প করা মন্দ বা দোষের কিছু নয়। এতে ভালো সমাধান আসবে যদি কাছের কোন বন্ধু বা পরিবারে সদস্যরা  হতাশার কথা শুনে পজিটিভ চিন্তা করে ভালো মানসিক সাপোর্ট দিতে পারে।

একটা সময় আমার ইচ্ছা ছিলো আমি সাইকোলজি নিয়ে পড়ব। আমার প্রচন্ড ভালো লাগেই সাইকোলজি বিষয়টি। এই বিয়ষটির প্রতি আমার একটা দুর্বলতা কাজ করে সব সময়। তবে হ্যা আমি সত্যি অবাক হয়ে যাই যখন সাইকোলজি ডাক্তারের কাছে কেউ গেলো লোকজন তাকে পাগল বলে। আমাদের সমাজে এই চিন্তা ধারাগুলো পরিবর্তন হবে কি? মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে যেমন ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার তেমনি মানসিকভাবে অসুস্থ হলেও ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার।
তবে হতাশা কাটানো একমাত্র ভালো উপায় হলো সময়ের সাথে নিজের দ্রুত মানিয়ে নেয়া শিখাটা। হয়ত শিখার জন্য রপ্ত করতে হবে মন ও বিবেকটা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। কয়জন পারে তা?