পারাপার

1
23

ছেলেটি মন খারাপ করে হাসপাতাল থেকে বের হলো।আগামীকাল মাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হবে। কিন্তু এখনো সম্পূর্ন টাকা যোগার হয়নি। এদিকে আগামী কাল থেকে মিটর্টাম পরীক্ষা শুরু। আজই শেষ তারিখ সেমিষ্টার ফ্রি দেয়ার জন্য। কিছুই ম্যানেজ হয়নি। রাস্তায় হাটতে হাটতে ছেলেটি ভাবতে শুরু করলো এখন কি করা যায়?

পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি বের করে কয়েকজনকে কল দিলো। কিন্তু সবাই জানালো কেউ টাকা দিতে পারবে না। দিশেহারা হয়ে গেলো ছেলেটি। কিভাবে সেমিষ্টার ফ্রি দিবে? প্রথমে গেলো ভার্সির্টি। সেখানের গিয়ে বিভাগীয় প্রধানের সাথে কথা বলে জানা গেলো আজকেই কিংবা আগামীকাল পরীক্ষার আগে যেভাবে হউক ফ্রি পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে পরীক্ষা দেয়া যাবে না। প্রবেশ পত্র পাবে না। ছেলে অনুরোধ করলো দুইদিন সময় দিতে কিন্তু ভার্সিটি থেকে মানা করে দিলো। জানানো হলে, সম্ভব নয়। এটা নিয়ম না।

ভার্সিটি থেকে বের হয়ে গেলো ছেলেটি। কি করবে এখন? দুচোখে দিশেহার অসহায়ের চাপ। রাস্তায় প্রতিটি মানুষ, গাড়ি, দোকানপাট সব কিছু ঝাপসা দেখতে শুরু করলো ছেলেটি। প্রচন্ড ইচ্ছা করে এই চিপঢালা রাস্তায় কোন গাড়ি নিচে পড়ে মারা যেতে কিংবা কোন ট্রেন নিচে গিয়ে মারা যেতে। ছেলেটির দু চোখ দিয়ে জল পড়ছে। চশমার কারণে তা দেখা যাচ্ছে না। পৃথীবিতে টাকা মূল্য অনেক বেশি। জন্ম নিলেও টাকা লাগে মরে গেলেও টাকা লাগে। দুনিযাটা যেন টাকা খেলা।

ছেলেটি সিন্ধান্ত নেয় আত্নহত্যা করবে। নিজেকে ঘৃণা করা শুরু করলো। নিজের মায়ের জন্য হাসপাতালে ফ্রি যোগার করতে পারি না? এই কেমন ছেলে আমি? ভাবতে শুরু করলো। একটা সময় মাথায় খুন চেপে উঠলো। ছেলেটি আত্নহত্যার করার জন্য ছুটে চললো। কিন্তু বিবেকের কাছে হেরে গেলো ছেলেটি।

পরদিন খবরের কাজগের সংবাদ প্রকাশিত হলো “টাকার জন্য যুবকের আত্নহত্যাহ।”

এই খবর ছড়িয়ে পড়লো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার হতে শুরু করলো। সবাই ছি:ছি করছে ছেলেটির জন্য। টাকার জন্য আত্নহত্যা করতে হয়। ছেলেটি পাগল নাকি? ভালো হয়েছে ছেলেটি মারা গেছে। এমন ছেলে পৃথীবিতে না থাকাই ভালো? সামান্য টাকার জন্য আত্নহত্যার ছি ছি? ছি:ছি স্ট্যাটাস ছুড়ে।

download

দূর থেকে ছেলেটি তা দেখছে। আর বলছে, আমার জায়গাতে যদি আজ আপনরা থাকতে তাহলে বুঝতে পারতেন। আমার অনুভূতিগুলো আপনাকে আমি যেমন বুঝাতে পারব না, ঠিক তেমনি আপনাদের অনুভূতিগুলো হয়ত আমি বুঝব না। আপনার জায়গা আপনি সঠিক আমার জায়গায় আমি সঠিক। সেই সময় যদি একজন মানুষ আমার কাছে এসে মাথায় হাত ভুলিও বলতো টেনশন নিও না। সব ম্যানেজ হয়ে যাবে। কিংবা ভার্সিটিতে দুইদিন সময় দিতো । তাহলে হয়ত এমনটা হতো  না। আপনাদের অনুরোধ প্লিজ এরুপ অবস্থা যেন না হয় কাউও।
দূর থেকে ছেলেটি এই কথাগুলো বলছে আর চোখে দিয়ে পানি পড়ছে। কিন্তু ছেলেটির কথা কেউ শুনছে না। ছেলেটি চিকিৎকার করে বলা শুরু করলো। কিন্তু কেউ এই কথা শুনছে না। কিভাবে শুনবে………….. ছেলেটি যে এখন পারাপারে…….

1 COMMENT

Comments are closed.