আম্মাকে ছাড়া এক সপ্তাহ !!!!

0
10

দুপুর দুইটার পরীক্ষা শুরু।আমি টেবিলে বসে আছি।পড়তে ইচ্ছা করছে না।মনটা প্রচন্ড খারাপ।আজ এক সপ্তাহের মত হল আম্মা বাসায় নেই।এই প্রথম এতদিন আম্মাকে ছাড়া থাকছি ।আম্মা না থাকার কষ্ট টা হারে হারে টের পাচ্ছি।সবার কাছেই তার নিজের মা পৃথীবির বেস্ট মা।আমার কাছেও তা।এখনো আম্মা আমাকে নিজে হাতে ভাত খাইয়ে দেয়।আমি জুতার ফিতা বাধতে পারি না।আম্মা আমার ফিতা বেধে দেয়।গোসল করে আম্মার শাড়ি আচল দিয়ে মাথা মুছি।:( বড্ডা বেশি মিস করছি আম্মাকে।

অশ্রুদর্শনী যেদিন আমাকে অনেক লেকচার দিল ।খুব ভাল লাগল ওর লেকচারগুলো।এতদিন আমার ধারণা ছিল ও খুব বেশি ছেলেমানুষী।এখনো বড় হয়নি।কিন্তু ওর লেকচার শুনার পর মনে হল ও অনেক বড় হয়েছে ।আমাকে প্রশ্ন করল আমি ছোট ছোট ছোট কাজগুলো নিজে করি কি না।যেমন গ্লাস পানি নিয়ে খাওয়া,নিজের খারাপ নিজে নিয়ে খাওয়া,কাপড় ধোয়া ইত্যাদি।

মা,আম্মা

সবগুলো উওর ছিল না।এরপর অশ্রুদর্শনী আমাকে বলল, ‘তোমার কাছ থেকে আন্টি বড় তুমি কেমন করে আন্টিকে পানি আনা ,কাপড় ধোয়া ইত্যাদি কাজ করার জন্য বল।আক্কেল হয় নাই।আন্টি বয়স হচ্ছে এই ছোট ছোট কাজ গুলো নিজে করলে কি হয়??এরপর অশ্রুদর্শনীর কাছে প্রমিজ করলাম আমি এখন থেকে নিজের কাজ নিজে করব।আসলেই তো ছোট ছোট কাজগুলো নিজে করে নিলেই পারি।আম্মাকে আর কষ্ট দিয়ে কি লাভ।নিজে কাজ করার মাঝে একটা আনন্দ আছে।এই আনন্দটা উপভোগ করতে হবে।

এবার আম্মা বাসায় আসলে আম্মাকে আর ছোট ছোট কাজগুলো যেমন পানি আনতে বলা,কোথায় যাওয়ার আগে  বলব না আমার শার্টটা দাও,প্যান্টটা দাও ,কিংবা নিজের কাপড় নিজেই পরিষ্কার করব :)নতুন বছরের  শুরুটার আমার আর একটা মিশন যোগ হল।

অশ্রুদর্শনী অনেক ধন্যবাদ ব্যাপারগুলো সুন্দর করে বোঝানোর জন্য।অশ্রুদর্শনী তুমি এত ভাল কেন??

এই পৃথীবি একদিন সবাইকে ছেড়ে যেতে হবে।এক সময় আম্মাকে ও যেতে হবে।কিন্তু যখন চিন্তা করলাম তখন আমি দু’চোখ পানি চল আসলো আনমনে।আম্মাকে কখনো হারাতে পারব না।আম্মার চলে যাওয়া আমি কখনো সহ্য করতে পার না।অশ্রুদর্শনী তোমার চলে যাওয়াও সহ্য করতে পারব না।কখনো না কখনো না।