ভাবনা ও দুর্ভাবনা : মুহম্মদ জাফর ইকবাল

0
5

এই সপ্তাহে বদর বাহিনীর নেতা চৌধুরী মুঈন উদ্দিন আর আশরাফুজ্জামানের বিচারের রায় হয়েছে। একাত্তরের ডিসেম্বর মাসে যখন সবাই বুঝে গেল পাকিস্তানি মিলিটারির পরাজয় সুনিশ্চিত তখন জামায়াতে ইসলামীর কিলিং স্কোয়াড কুখ্যাত বদর বাহিনী সিদ্ধান্ত নিল, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই যতজন সম্ভব শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক, ইঞ্জিনিয়ার -এক কথায় সব ধরণের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে ফেলতে হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী চৌধুরী মুঈন উদ্দিন আর আশরাফুজ্জামান মাইক্রোবাসে করে ঘুরে ঘুরে এই দেশের সোনার সন্তানদের তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এরা দু’জনই তখন জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠনের নেতা।

৪২ বছর আগের কথা হলেও আমার এখনও সব স্পষ্ট মনে আছে। মনে হয়, বুঝি মাত্র সেদিনের কথা। পাকিস্তানি মিলিটারি আত্মসমর্পণ করার পর দেশ সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হওয়ার পর আমরা তখন প্রথমবার স্বাধীন দেশের রাজপথে বের হয়েছি। সেই অবিশ্বাস্য আনন্দের কথা আমাদের প্রজন্ম কোনো দিন ভুলতে পারবে না। প্রথম যেদিন খবরের কাগজ বের হয়েছে, সেখানে দেখি এই দুই নরঘাতক চৌধুরী মুঈন উদ্দিন আর আশরাফুজ্জামানের ছবি। তখন ধীরে ধীরে বুদ্ধিজীবী হত্যার খবর বের হয়ে আসতে শুরু করেছে। খবরের কাগজে এই দুই নরঘাতককে ধরিয়ে দেয়ার আবেদন বের হয়েছে। পৃথিবীর সব কাপুরুষ নরঘাতকদের মতো তারাও আত্মগোপন করে প্রাণ বাঁচিয়েছে। তাদেরকে ধরা যায়নি। শুধু তাই নয়, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যখন এই দেশে মিলিটারি শাসন শুরু হলো তখন পুরো দেশটা ‘এবাউট টার্ন’ করে উল্টো দিকে হাঁটতে শুরু করল। এই দুই নরঘাতক তখন দেশ থেকে ঘুরে গেছে, কেউ তাদের স্পর্শ করেনি।

শেষ পর্যন্ত এ দেশের মাটিতে তাদের বিচার হয়েছে। তাদের দু’জনকেই ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে ইংল্যান্ড-আমেরিকা থেকে ধরে এনে এ দেশের মাটিতে ফাঁসি দেয়া যাবে কি না, আমরা জানি না। শুধু এইটুকু জানি, ইতিহাসের পাতায় তারা দেশদ্রোহী নরঘাতক হিসেবে পাকাপাকিভাবে চিহ্নিত হয়ে গেল। আজ থেকে শত বছর পর আমরা কেউ-ই থাকবো না, কিন্তু এই ইতিহাসের পাতাটি থেকে যাবে। সেখানে ভবিষ্যতের বংশধরেরা ঘৃণা ভরে এই মানুষ দু’টির দিকে তাকাবে।

১৯৭১ সালে চৌধুরী মুঈন উদ্দিন আর আশরাফুজ্জামানের মতো জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতা-কর্মী ছিল, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আজ্ঞাবহ হয়ে এই দেশের গণহত্যাকে সাহায্য করেছে। একাত্তরে এই রাজনৈতিক দলটির যে চরিত্র ছিল, ২০১৩ সালে কি সেই চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়েছে? আমার মনে হয়- না, যদি হতো তাহলে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার মেনে নিয়ে তারা নিজের দলের গ্লানি মুক্ত করত। আমরা সবাই দেখেছি, একেকজন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বের হয়েছে আর এই দলটি তার প্রতিবাদে সারাদেশে এক ধরণের তাণ্ডব শুরু করেছে। তারা কি বিশ্বাস করে একাত্তরে তারা যা করেছিল সেটা সঠিক?

তারা কি মনে করে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আজ্ঞাবহ হয়ে দেশে গণহত্যা করা যায় এবং যারা সেটি করেছে, এই দেশের মানুষ তাদের বিচার করতে পারবে না? তারা কি বিশ্বাস করে, চৌধুরী মুঈন উদ্দিন আর আশরাফুজ্জামানের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার অধিকার ছিল? একাত্তরে সেটি যদি কোন অপরাধ না হয়ে থাকে তাহলে ভবিষ্যতেও কি সেটি আবার করা যাবে? আমি এই প্রশ্নটি করছি কারণ, একাত্তরে এই রাজনৈতিক দলটি যা যা করেছিল এখন তারা আবার ঠিক সেই একই কাজগুলো করতে শুরু করেছে। তারা হিন্দুদের আক্রমণ করছে, তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে, ট্রেন লাইন তুলে ফেলছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের খুন করছে।

সামনে নির্বাচন। নির্বাচন কিভাবে হবে, সেটি এখনও দেশের মানুষ জানে না। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানী-গুণী মানুষেরা এই নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। কাজেই নিশ্চয়ই কিছু একটা ফর্মুলা বের হয়ে যাবে, আমি সেটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। আমার প্রশ্ন নির্বাচনের পরের অংশটুকু নিয়ে। জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপি গতবার নির্বাচনে জিতে আসার পর এদেশের হিন্দুদের উপর যে বিভীষিকা নেমে এসেছিল, আমি এখনও সেটা ভুলতে পারি না। (আমার সেটি নিয়ে একটা অন্যরকম ক্ষোভ আছে, এই দেশে প্রগতিশীল হিসেবে যেসব পত্রিকা অহংকার করে কিংবা যেসব বুদ্ধিজীবী নিজেদের পরিচয় দেন, তারা দীর্ঘদিন তাদের মুখ বন্ধ করে রেখেছিল। শাহরিয়ার কবীরদের মতো কিছু মানুষ বিষয়টিকে সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর পর খুব অনিচ্ছাসত্ত্বেও এইসব পত্রিকা তাদের রিপোর্টগুলো প্রকাশ করতে শুরু করেছিল। যারা আমার কথা বিশ্বাস করেন না, তারা ঠিক আজ থেকে এক যুগ আগের পত্রপত্রিকা বের করে পড়ে দেখতে পারেন!) এই নির্বাচনে যদি বিএনপি জিতে আসে, তাহলে কি এবারেও সেই বিভীষিকাটি আমাদের দেখতে হবে? এবার যেহেতু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে তাই যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছে, তাদের উপর নতুন মুঈন উদ্দিন আর নতুন আশরাফুজ্জামানেরা আক্রমণ করবে? এক যুগ আগে যে রকম সরকার চোখ বন্ধ করে ছিল, আবার কি সেরকম হবে?

আমার দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন আছে, কার কাছে সেই প্রশ্ন করব বুঝতে পারছি না। আমরা সবাই দেখেছি, ইসলামকে রক্ষা করার জন্য হেফাজতে ইসলাম নামে একটি সংগঠন হঠাৎ করে আত্মপ্রকাশ করেছে। পত্র-পত্রিকায় যে সব খবরাখবর পড়েছি তাতে মনে হয়েছে, এটি বুঝি আওয়ামী লীগেরই তৈরি করা একটি ইসলামি দল। কারণ দেখতাম- আওয়ামী লীগের মন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের হুজুরদের সামনে নত শিরে বসে থাকতেন! হঠাৎ করে দেখা গেল, হেফাজতে ইসলাম আসলে জামায়াতে ইসলামেরই একটা নতুন সংস্করণ! গণজাগরণ মঞ্চের উপর তাদের বিশেষ রাগ, আমি একদিন শাহবাগে বসেছিলাম যখন হেফাজতের কর্মীরা তাদের সম্মেলনের পর শাহবাগ আক্রমণ করেছিল! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সেই আক্রমণ ঠেকিয়েছিল। তা না হলে কী হতো, আমি এখনও জানি না।

যাই হোক হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি রয়েছে। সেই ১৩ দফা দাবি মানা হলে বাংলাদেশ এক ঘণ্টার মাঝে আফগানিস্তান হয়ে যাবে! সেই দাবিগুলো মেয়েদের জন্য শুধু অপমানজনক নয়, ভয়ঙ্কর রকম বিপদজনক। মেয়েদের এরকম অসম্মান করা দাবি-দাওয়া কেমন করে দেওয়া হলো, সেটা নিয়ে আমার এক ধরণের বিস্ময় ছিল। ঠিক তখন হেফাজতের নেতা আহমদ শফির সেই বিখ্যাত তেঁতুল সংক্রান্ত বাণীটি প্রচারিত হলো। আমাদের দেশ যে হাজার রকম বাধা-বিপত্তির মাঝেও সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তার প্রধান কারণ হচ্ছে, এই দেশে ছেলেরা আর মেয়েরা পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে। একত্তারে এই দেশে অসংখ্য পরিবারের পুরুষ সদস্য মারা যাওয়ার পর মেয়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের রক্ষা করার জন্য ঘরের বাইরে এসে কাজ শুরু করেছিল, সেখান থেকে শুরু। এখন আমাদের দেশে ছেলেরা যে কাজ করতে পারে, মেয়েরাও সেই কাজ করতে পারে। মেয়ে শ্রমিক এই দেশে খুব পরিচিত একটা দৃশ্য। স্কুলে অনেক জায়গায় ছেলেদের থেকে মেয়েরা বেশি। হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমদ শফী তার তেঁতুল তত্ত্বে পরিষ্কার বলে দিলেন, মেয়েদের ক্লাস ফোর-ফাইভ থেকে বেশি পড়ার প্রয়োজন নেই। পুরুষদের একাধিক বিয়ে করতে উৎসাহ দিলেন। পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে ঘোর অবৈজ্ঞানিক কিছু তত্ত্ব দিয়ে সেটা নিরুৎসাহিত করলেন! যে সংগঠনের নেতার এ ধরণের বিশ্বাস, তারা এই দেশে মেয়েদের সম্মান করবে সেটা তো আশা করা যায় না!

মেয়েদের অসম্মান করা ছাড়াও আরো কিছু ব্যাপার আছে। মে মাসের ৫ তারিখ একজন হেফাজতে ইসলামের কর্মী তার হুজুরের আদর্শে বলীয়ান হয়ে একটি এসএমএস পাঠিয়ে পরিষ্কারভাবে আমাকে জানিয়ে দিয়েছিল যে- সম্ভবত এটাই আমার শেষ রাত, পরদিন আমাকে জবাই করা হবে। কিছু দিন আগে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের চালানো মাদ্রাসায় বোমা তৈরি করার সময় বেশ কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্র মারা গেছে। যার অর্থ তাদের কাজকর্ম শুধু আইন করে মেয়েদের ঘরের মাঝে বন্দি করে ফেলার মাঝে সীমিত নয়। বোমা তৈরি, বোমা ব্যবহার কিংবা আমাদের মতো মানুষদের জবাই করা ধরণের কাজেও তাদের উৎসাহ রয়েছে।

ব্যাপারটা এখানেই শেষ হলে সমস্যা ছিল না, আমার সমস্যা অন্য জায়গায়। বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ক্ষমতায় গেলে হেফাজতে ইসলামের এই ১৩ দফা বাস্তবায়ন করবে! প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার জরিপ করে বের করেছে, নির্বাচনে বিএনপি এগিয়ে। তাহলে কী আমরা ধরে নেব, নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে বাংলাদেশের মেয়েরা ঘরের মাঝে বন্দি হয়ে যাবে? আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েরা পাশাপাশি লেখাপড়া করে, তারা আর পাশাপাশি পড়াশোনা করতে পারবে না? হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা মেনে তো আর যাই হোক আধুনিক বাংলাদেশ কল্পনা করা যাবে না!

আজকাল দেশের গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকাগুলো জরিপ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে নিয়ে আসছে। মজার ব্যাপার হলো, ১৬ কোটি মানুষের দেশে হাজার দেড়েক মানুষের জরিপ নিলেই ১৬ কোটি মানুষের মনের কথা বের হয়ে আসছে! তাহলে নির্বাচনের আগে আগে আমরা কিছু জরুরি জরিপ কেন করে ফেলি না? এই দেশের ভোটারদের অধিক হচ্ছে মহিলা। আমরা কেন শুধু মহিলাদের মাঝে একটা জরিপ নিয়ে জেনে নেই না, আগামী নির্বাচন নিয়ে তারা কী ভাবছে? বাংলাদেশটা যখন একটা আধুনিক দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে, ঠিক তখন একটা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা বাস্তবায়ন করার কথা বলে নির্বাচন করবে! এই দেশের মেয়েরা কী সেটা মেনে নেবে? স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা মেনে নেবে? গার্মেন্টসের মেয়েরা মেনে নেবে? মেয়ে নির্মাণ শ্রমিকরা মেনে নেবে? মায়েরা মেনে নেবে?

০২

আমি যখন এই লেখাটি লিখছি, তখন সারাদেশে হরতাল চলছে। নতুন প্রজন্ম আসলে কখনও সত্যিকারের হরতাল দেখেনি! একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে এ দেশে কিছু হরতাল হয়েছিল। যারা সেগুলোতে অংশ নিয়েছে, শুধু তারাই বলবে পারবে হরতাল ব্যাপারটা কী!

এখন যে হরতাল দেওয়া হয়, সেগুলো মানুষকে কষ্ট দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা ঘরের মাঝে বসে নিজের কাজ করি (সত্যি কথা বলতে কী, এই হরতালের কারণে আমাদের একটা আস্ত বই লেখা হয়ে গেছে!) কিন্তু গরীব মানুষের খুব কষ্ট। তারা নিশ্চয়েই এক ধরণের বিস্ময় নিয়ে ভাবে- কেমন করে এই দেশের মানুষ এত মমতাহীন হতে পারে। কেন করে তারা নিজেরা বাড়তি একটা দিন ছুটি উপভোগ করে। তাদের মতো গরীব মানুষদের অভুক্ত থাকার দিকে ঠেলে দেয়। সত্যি কথা বলতে কী, এই দেশের দুঃখী মানুষ সেটাও সহ্য করতে রাজি ছিল, কিন্তু ইদানিং যে ব্যাপারটা ঘটছে সেটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

আমরা সবাই দেখেছি, হরতালের পিকেটিং করার জন্য গাড়ির ভেতরে মানুষ রেখে গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত শরীর পুড়ে একজন কিশোর অঙ্গার হয়ে বসে আছে! এর চাইতে ভয়ঙ্কর হৃদয় বিদারক, নিষ্ঠুর দৃশ্য আর কী হতে পারে? কাজ-কর্ম করতে গিয়ে, চুলা কাছে কিংবা মোমবাতির আলোতে যখন হঠাৎ করে আঙুলে ছ্যাঁকা লাগে তখন আমরা সেই যন্ত্রণায় ছটফট করি। যখন একজন মানুষের পুরো শরীর আগুনে পুড়ে যায়, তখন সেই যন্ত্রণা না জানি কত ভয়ঙ্কর। কত নিষ্ঠুর হলে একজন মানুষ সম্পূর্ণ বিনা কারণে আরেকজন মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে? তাদের মনের ভেতর কি সেটা নিয়ে এতটুকু অপরাধবোধ নেই? ধরে নিতে হবে এটা রাজনীতির ধারা? হরতালকে সফল করার জন্য দেশের কিছু মানুষকে হত্যা করা যেতে পারে? এই দেশের মানুষ হিসেবে আমি কী নিজেকে এই অপরাধবোধ থেকে মুক্ত রাখতে পারব?

এই দেশের মানুষ হিসেবে আমরা অনেক আগেই মেনে নিয়েছি যে, এখানে হরতাল হবে, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া হবে না, পরীক্ষা পিছিয়ে যাবে, গরীব মানুষ অভুক্ত থাকবে, রোগাক্রান্ত মানুষ চিকিৎসা পাবে না। কিন্তু হরতালকে সফল করার জন্য মানুষকে পুড়িয়ে মারা হবে সেটি আমরা কখনও মেনে নেইনি।

মানুষের অভিশাপ বলে কী সত্যিই কিছু আছে? যদি থাকে, তাহলে সেই ভয়ঙ্কর অভিশাপ থেকে এই রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা কী নিজেদের রক্ষা করতে পারবে?
পারবে না।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল
অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।