নিল আর্মস্ট্রং চলে গেল

2
8

চাঁদে অবতরণকারী প্রথম মানব নিল আর্মস্ট্রং সম্প্রতি মারা গেছেন।পরিবার থেকে একটি বিবৃতিতে জানা যায় , তিনি হার্টের জটিলতার কারনে এই মাসের শুরুর দিকে হার্টের র্সাজারি হয়েছিল। কিন্তু এতে সফল হয় নি।৮২ বছর বয়সে এই নভোচারী মৃত্যুমুখে পতিত হলেন।  কার্ডিওভাসকুলার পদ্ধতিতে জটিলতার ফলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

১৯৬৯ সালের জুলাইয়ের ২০ তারিখ চাঁদে অবতরণ করে অ্যাপোলো ১১ যার কমান্ডার ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের ভূমিতে অবতরণের ৬ ঘণ্টা পর নিল আর্মস্ট্রং সিঁড়ি বেয়ে নেমে চাঁদের বুকে পা রাখেন। এই বিরল ঘটনার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে চাঁদে পা রাখা প্রথম নভোচারী হয়ে ওঠেন তিনি।

মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, “আমেরিকার সেরা হিরোদের মধ্যে একজন – শুধু তার সময়ের জন্য নয় বরং সবসময়ের জন্য।”

সংক্ষিপ্ত জীবনি:

আর্মস্ট্রং জন্মগ্রহণ করেন ওহিয়োতে আগস্ট ৫, ১৯৩০ একজন মার্কিন নভোচারী ও বৈমানিক। তিনি চাঁদে অবতরণকারী প্রথম মানুষ হিসাবে পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।  তাঁর প্রথম মহাকাশ অভিযান হয় ১৯৬৬ খ্রীস্টাব্দে, জেমিনি ৮ নভোযানের চালক হিসাবে। এই অভিযানে তিনি ও ডেভিড স্কট মিলে সর্ব প্রথম দুইটি ভিন্ন নভোযানকে মহাকাশে একত্রে যুক্ত করেন।

পড়াশুনা

আর্মস্টং পড়াশোনা করেন পার্ডু বিশ্ববিদ্যালয় এ, এবং পরে ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াতে। নভোচারী হওয়ার আগে আর্মস্ট্রং মার্কিন নৌবাহিনীর বৈমানিক ছিলেন। তিনি কোরীয় যুদ্ধে অংশ নেন। এর পর তিনি ড্রাইডেন ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টারের পরীক্ষামূলক বিমান চালক হিসাবে যোগ দেন। বিভিন্ন পরীক্ষামূলক বিমান নিয়ে তিনি ৯০০ এর ও অধিক বার উড্ডয়ন করেন।

চন্দ্র অভিযান

আর্মস্ট্রং এর পরবর্তী ও শেষ অভিযান হয় এপোলো ১১ নভোযানের অভিযান নেতা হিসাবে। এই অভিযানে তিনি ১৯৬৯ খ্রীস্টাব্দের জুলাই ২৬ তারিখের গ্রীনউইচ মান সময় ১২:৩৬ পিএম এ চাঁদে অবতরণ করেন। প্রথম মানুষ হিসাবে চাঁদে পা রাখার সময় তিনি মন্তব্য করেন,

This is a small step for (a) man, but a giant leap for mankind

অর্থাৎ,

এটি একজন মানুষের জন্য ক্ষুদ্র একটি পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল অগ্রযাত্রা


চাঁদে আর্মস্ট্রং ও এডুইন অল্ড্রিন জুনিয়র অবতরণ করেন, ও ২.৫ ঘণ্টা কাটান।

জীবন

অ্যাপোলো ১১ এর পরে আর্মস্ট্রং আর মহাকাশ অভিযানে যান নাই। তিনি ১৯৭৯ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অফ সিনসিনাটির ঊড্ডয়ন প্রকৌশলের অধ্যাপক হিসাবে কাজ করেন।

মৃত্যু

৮২ বছরে বাইপাস সার্জারির কিছুদিন পর ২০১২ সালের ২৫ আগষ্ট তিনি মৃত্যুবরন করেন। 

সম্মাননা

নভেম্বর ২০১১ তে আরো তিন নভোচারীর সঙ্গে নিল আর্মস্ট্রং যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল অর্জন করেছেন।

2 COMMENTS

  1. মহাকাশ গবেষণায় নীল আর্মস্ট্রং’এর অবদান অপরিসীম। বিজ্ঞানের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল তার মহাকাশ অভিযানের ফলে।

    তার প্রতি শ্রদ্ধা রইলো।।

Comments are closed.