অ্যাপস্টোরে এখন স্যার মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং কিছু কথা

0
12

প্রতিদিনের মত সকালে ঘুম ঘুম চোখে আমার অভ্যাস প্রথম পিসিটা ওপেন করা। এরপর ফেইসবুকে মেইল এবং নোটিফিকেশন চেক করা।
আজ সকালেও তার ব্যাতিক্রম হল না। ফেইসবুকে হোম পেইজে মুনির হাসান স্যারের একটা স্ট্যাটাস দেখতে পেলাম ,


” আজ জাফর ইকবাল স্যারের লেখা ই-বই এপল স্টোরে উন্মুক্ত হবে!!!
দেশের বাইরে যারা আমাদের বইগুলো পড়তে পারেন না তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ।আমাদের প্রায় ৭০ লক্ষ প্রবাসী রয়েছেন, যারা নিরন্তর খেটে ডলার পাঠিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অনেকে ইচ্ছে করলেও বাংলা বই পড়তে পারেন না। তাদের জন্য এপল স্টোর, আমাজন কিংবা এন্ড্রয়েড মার্কেট থেকে বই পড়ার সুবিধাটা আমাদের করতে হবে। এটি হয়তো তার প্রথম প্রচেষ্ঠা (আরো থাকরে আমি জানি না। আমার অজ্ঞতাকে ক্ষমা করবেন)।
দেখা হবে বিজয়ে!!!”

স্যার মুহাম্মদ জাফর ইকবাল আমার অনেক প্রিয় একজন মানুষ সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এ্যাপল ও আমার প্রিয় গেজেটগুলো মধ্যে এক নম্বরে আছে। যদিও এ্যাপলের কোন গেজেট কিনার স্বামর্থ হয়নি এখনো। তবুও ভাল লাগে দেখে আইপ্যাড,আইফোন……ম্যাক এয়ার……:) আমার এ্যাপল প্রীতির কথা নিয়ে অনেকদিন আগে লিখেছিলাম।
একটি কিডনি বিক্রি হবে “- আইপ্যাড কিনা এখন মাএ সময় ব্যাপার মাএ 😛 😛
বই পড়ার অভ্যাসটা আমার ছোটবেলা থেকে। আগে বই কিনতাম টিফিনের টাকা জমিয়ে আর পুরানো লাইব্রেরী থেকে। কিন্তু বর্তমান বইয়ের দাম দেখলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। টাকার অভাবে অনেক বই পড়া হয় না। বইমেলায় যখন যাই তখন বইগুলোর দিকে তাকিয়ে হা করে তাকিয়ে থাকি। লিস্ট এ অনেক বই থাকে মেলা থেকে বের হয়ে দেখি দুইটা বা তিনটা বই কিনতে পেরেছি 🙁 আমার মত মানুষদের জন্য ফ্রী পিডিএফ ভার্শনই শেষ ভরসা। এই বইমেলায় সময় হঠাৎ করে একটা গ্রুপ খুলে ফেললাম একটা মজার তথ্য হচ্ছে গ্রুপে কাউকে এডড করতে হয় নি। এবং গ্রুপের প্রথম শর্ত হলে এই গ্রুপে কাউকে না জানিয়ে এডড করা হবে না। যদি কাউর ভাল লাগে যে যেন নিজের ইচ্ছায় গ্রুপে জয়েন করে। কারন গ্রুপ এডড একটা বিরক্তি জিনিসে প্রতিদিন দেখি অনেক না জানিয়ে কয়েকটা গ্রুপে এডড করে দেয়।তখন বিরক্ত লাগে তাই কাউকে নিজের ইচ্ছায় এডড করা বন্ধ। শুধু মাএ যারা বই পড়ে তাদের জন্য এই গ্রুপটি। বই নিয়ে নানা আলোচনা , বিভিন্ন বই শেয়ার করা , কি কি বই পড়ছি এই নিয়ে আলোচনা করা হয় ।
চাইলে জয়েন করতে পারেন । কিন্তু যদি বই পড়তে না ভালবাসের তাহলে জয়েন না করলে ভাল হয়।
গ্রুপটির লিংক”আমার যারা বই পড়ি


এখন আমার বই পড়ান মাধ্যম হয়ে গেছে পিডিএফ। প্রায় যে কোন বই পিডিএফ আগে সার্চ করি । যদি পাই তাহলে তো ভালই………:)
আর দেখলাম পিডিএফ এই বইগুলো নিয়ে অনেক সাইট আছে এবং প্রতিটি সাইটে ফ্রী বইগুলো পাওয়া যায়।
কিছুদিন আগে সংবাদপএে পড়েছিলাম কাগজের বইয়ের দিন শেষ।এখন দিন হল ইবুক এর।কিন্তু আমাদের দেশ যে ক্ষেএ কতটা পিছিয়ে আছি সেটা কি একটু ভেবে দেখছেন??
এখন প্রশ্ন জাগতে পারে কিভাবে আমার পিছিয়ে আছি?
নাম করা এবং বেশ কিছু বিখ্যাত বই আমার তো পিডিএফ ভার্শনে পাচ্ছি।এবং ইবুক নিয়ে অনেক সাইট আছে। তাহলে সমস্যা কোথায়??
কিন্তু আমরা যে বইগুলো পাচ্ছি এগুলো কি আসলে সঠিক ভাবে পাচ্ছি? পাইরেসী বলে একটা কথা আছে না ??এটা করছি (
যদিও আমি নিজে পাইরেসী করেই বই ডাউনলোড করি 😀 )
তবে আমার মনে হয় এই ক্ষেএে প্রকাশকরা বিশেষ ভূমিকা দিতে পারে। তারা যদি তাদের বই কাগজ প্রকাশ করার পাশাপাশি অনলাইনে ইবুক আকারে বের করত তাহলে বেশ ভাল হত(ফ্রি না প্রেইড) এবং সাথে যদি দাম টা কম রাখত তাহলে।আর যদি টাকা মোবাইলে মধ্যমে দেওয়ার ব্যাবস্থা থাকত তাহলে আমজনতা ইবুক কিন্তু পারত ।
যদিও এর মধ্যে বেশ কিছু কিন্তু আছে??
আমি আশা করি আমাদের দেশে অতিদ্রুত এই রকম কিছু একটা পাব। যাতে করে আমার মত যারা বই পড়তে পছন্দ করে তদের ভীষন উপকার হবে।
এভাবে পাইরেসী করে বই পিডিএফ ডাউনলোড করতে বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে যে, একজন লেখক এত কষ্ট করে একটা লেখা লিখছে এবং সেই লেখাটা প্রকাশক প্রকাশ করেছে আর আমি ২মিনিট ফ্রী ডাউনলোড করে ফেলছি। লেখকের পাপ্যটা আমি দিচ্ছি না। 🙁
কিন্তু উপায় না দেখে করতে হয়। কারন মধ্যবিত্ত পরিবারের কাউর পক্ষে এত টাকা দিয়ে একটা বই কিনা অতি কষ্টের……৯০পৃষ্টা বইয়ের দাম ১৫০ টাকা।
যদি প্রকাশ ইবুক আকারে সেইম বই বের করে অনলাইনে ৫০ টাকাও বিক্রি করত তাহরে ও হত। মোটামুটি সবাই কিনতে পারত।এতে করে দুই পক্ষের লাভ হত। সাথে পরিবেশের ও উপকার হত 😀
তবে আজ ভাল লাগল জাফর স্যারের বই অ্যাপস্টোর পাওয়া যাবে এই নিউজটা পড়ে।

দেখি আসলে ব্যাপারটা কি??

বাংলা সাহিত্য বিশ্বের সকল বাংলা ভাষা-ভাষী মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেয়ার জন্য এই প্রথম স্টারহোস্ট আইটি লিমিটেড ই-বুক আকারে বেশ কিছু জনপ্রিয় উপন্যাস লেখকের অনুমোদন নিয়ে প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিখ্যাত উপন্যাসিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর দুইটি পাঠক প্রিয় কিশোর উপন্যাস ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ এবং ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ স্টারহোস্ট বিশেষ ভাবে স্মার্টফোনের জন্য প্রকাশ করেছে।

ই-বুক সম্পর্কে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এক ভিডিও বার্তায় তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “খুব আনন্দের সময় এটা। কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমরা যেই বই দেখে অভ্যস্ত কিছুদিনের ভিতরেই সেই বই থাকবে না। সব বই হয়ে যাবে ই-বুক। কারণ একটি কাগজের বই যে পড়ছে তাকে মনে রাখতে হবে কোন না কোন জায়গায়, কোন না কোন গাছ কাটা হয়েছে বইটি তৈরি করার জন্য। কিন্তু ই-বুকের ব্যাপারে সেটি হচ্ছে না। কাজেই আমি অনেকদিন থেকেই বলছি সবাইকে কিন্তু ই-বুকের দিকে যেতে হবে।”
 

তিনি আরো বলেন, “আমি খুব খুশী হয়েছি যে আমাদের দেশে স্টার হোস্ট তারা ই-বুক তৈরি করছে এবং খুব গর্ব অনুভব করছি তারা প্রথম ই-বুক তৈরি করার জন্য আমার দুইটি বই বেছে নিয়েছে। আমি সবাইকে বলছি, এটা একটা নতুন টেকনোলোজি। এটা আসছে এবং এটা থাকবে। স্টার হোস্টকে আমি অভিনন্দন জানাই যে তারা সেই জিনিসটি সবার আগে বুঝতে পেরেছে।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক এর সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান। এ সময় তিনি বলেন, দেশের বাহিরে বাঙালী পাঠকদের জন্য আমাদের কিছু করতে হবে। এই জন্য আমাদের কাগজের বই গুলো ই-বুক আকারে প্রকাশ করতে হবে। অনেক দিন ধরে স্যারের চিন্তা ছিলো তার বই গুলো ই-বুক আকারে প্রকাশ করার। সেটা স্টারহোস্ট আইটি মাধ্যমে সম্ভব হলো। বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ লোক আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহার করেন। এবং দেশের বাহিরে অনেক লোক বাংলা ভাষাভাষী লোক আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহার করে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২৩ কোটি বই ছাপানো হয়। এই বই গুলো যদি ই-বুক আকারে প্রকাশ করা হয়। তাহলে দেশের জন্য অনেক ভালো একটি পদক্ষেপ হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্টার হোস্টের প্রধান নির্বাহী কাজী জাহিদুল আলম বলেন, এর মাধ্যমে দেশে এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাঙালীদের মাঝে বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চার এক নতুন দিক উন্মুক্ত হলো। বরাবরই ডিজিটাল ভার্সনের উপর লেখক এবং প্রকাশকদের পাইরেসি সংক্রান্ত ভীতি কাজ করে আসছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে স্ক্যানকৃত ই-বুক পাওয়া গেলেও দেখা গিয়েছে অধিকাংশেরই কোন অনুমোদন নেই।

বইয়ের লেখকগণ তাদের সম্মানী পাচ্ছেন না, স্ক্যান এর মান খারাপ হবার কারণে পাঠকও পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না। ফলে ই-বুকের উপর লেখক ও পাঠকদের মনে ভুল ধারনার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এই প্রতিকূল প্রেক্ষাপটে জাফর ইকবাল স্যার দুটো বই নিয়ে আমাদের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করার চেষ্টা করেছি।

তিনি আরো বলেন, পাইরেসি প্রতিরোধ করা এবং কনটেন্টের মান বজায় রেখে গ্রাহকের কাছে ই-বুক পৌঁছে দেয়ার জন্য স্টারহোস্ট বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মাধ্যমে লেখক এবং প্রকাশকের মাঝে পাইরেসি সংক্রান্ত ভয়ভীতি নির্মূল হবে। ফলে পাঠক খুব সহজেই স্মার্টফোন থেকে বাংলা সাহিত্য চর্চা করতে পারবেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা গাণিতিক আকারে বাড়ছে এবং এদের মাঝে তরুণ প্রজন্মের সংখ্যাই বেশী। ফলে তরুণ প্রজন্ম বিশেষকরে প্রবাসীগণ খুব সহজেই এই সেবা গ্রহণ করতে পারবে। এতে করে দেশের প্রকাশনা শিল্পে যোগ হলো নতুনমাত্রা।

আইফোন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্মার্টফোন হওয়ার কারণে স্টারহোস্ট অ্যাপলের অ্যাপস্টোর মার্কেট প্লেসকে ই-বুক প্রকাশের জন্য প্রথমে বেছে নিয়েছে। বর্তমানে আইফোন, আইপ্যাড এবং আইপড টাচ থেকে বইগুলো কেনা যাবে। খুব শীঘ্রই জনপ্রিয় স্মার্ট ফোন অ্যানড্রয়েড, উইন্ডোজ মোবাইল এর জন্য ই-বুক প্রকাশ করা হবে। তথ্য প্রযুক্তির এই জোয়ারে বাংলা সাহিত্যকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য স্টারহোস্টের একান্ত প্রয়াস।

আইপ্যাড সংস্করণের স্ক্রিনশট

অ্যাপটি উন্নয়নের দায়িত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির তরুণ প্রধান প্রোগ্রামার তানজীন আহসান। প্রিয় টেক তাকে তার অনুভূতি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “আমরা অ্যাপ্লিকেশনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে কোর প্রোগ্রামিং ব্যবহার করেছি। যার ফল স্বরূপ আপনি খুব স্মুথ পারফরমেন্স পাবেন। ছোট ছোট বিষয়গুলোতে আমরা প্রাধান্য দিয়েছি। যেমন, আপনি বইটি পড়তে পড়তে বুকমার্ক করতে পারবেন। এবং থাম্বনিল ভিউয়ের মাধ্যমে বইয়ের অধ্যায়গুলো ব্রাউজ করতে পারবেন। এছাড়া বইটির আইপ্যাড সংস্করণে মূল বইয়ের চিত্রাঙ্কনগুলো ব্যবহার করা হয়েছে”

এই মুহূর্তে অ্যাপস্টোরে গিয়ে জাফর ইকবাল বা বইয়ের নাম দিয়ে সার্চ করলে ই-বুকগুলো পাওয়া যাবে। ই-বুক অ্যাপ্লিকেশনের আরও বিস্তারিত এবং ডাউনলোড লিংকের জন্য ভিজিট করুন এই দুটো ই-বুকের দাম আইফোনের জন্য ২ ডলার। আইপ্যাডের জন্য দাম ৪ ডলার।

উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠানটি ইতোপূর্বে বাংলা নিউজ ২৪ এ্রর জন্যেও অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে।

সহায়
উৎস এক
উৎস দুই