একটি অসাধারন জীবনগাথাঁ-২- "অন্তত নিজেকে চিনতে হবে"- শাহরুখ খান

2
16

এর আগের অসাধারন জীবনগাথাঁর প্রথম পর্বটি ”
একটি অসাধান জীবনগাথাঁ : আমি চাই, সবাই আমাকে মনে রাখুক একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই-টিম বার্নাস লি
  

আমার বরাবরের মত যে কাউ বক্তব্যগুলো পড়তে খুব ভাল লাগে। বড় বড় বিখ্যাত মানুষের কি সহজেই না জীবনের বাঁকে বাঁকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বলে। পড়তে এবং শুনতে দুটাই ভাল লাগে। মাঝে মাঝে নিজেকে না চিনলে অথবা যখন খুব অসহায় লাগে তখনএই লেখাগুলো বেশ সহায়ক ।

শাহরুখ খান আমার অনেক প্রিয় একজন নায়ক। বলতে গেলে আমি শাহরুখের চরম একজন ভক্ত। মানুষটার অভিনয় এর বিশেষ কিছু গুন আছে যা অন্য কাউর মধ্যে নেই।

শাহরুখ খান জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেতা। ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এই বক্তৃতা দেন।

শুভ সন্ধ্যা! আজকে এখানে আসার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। আজকে আমি তোমাদের আমার জীবনের সবচেয়ে সরল কথাগুলো বলে যাব। জানি না আমার কথায় তোমরা অনুপ্রাণিত হবে কি না। তবে এতটুকু বলতে পারি, এই সহজ সত্যগুলো তোমাদের টিকে থাকতে সাহায্য করবে।
জীবনকে অনেকভাবেই মাপা যায়; বয়স, সময় কিংবা লক্ষ্য দিয়ে বোঝানো যায় জীবনের পথচলা। সময়ের পরিমাপ আমাকে প্রায়ই বিভ্রান্ত করে। যেদিন আমার বাবা মারা গিয়েছিলেন, সেই একটি দিন আমার কাছে সারা শৈশবের চেয়েও দীর্ঘ মনে হয়। আমার জীবনের গন্তব্য কোথায়, মনে হয় না এই প্রশ্নের উত্তর আমি কখনো জানতাম। আমি হেঁটেছি, প্রাণপণে দৌড়েছি আমার স্বপ্নের পথে, যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু এসেছে, সবই এসেছে নিজেদের নিয়মে। আমি বদলেছি, আমার চারপাশের মানুষেরা বদলেছে, পুরো পৃথিবীটা বদলেছে, এমনকি আমার স্বপ্নও বদলে গেছে। কোথায় পৌঁছাতে হবে, তা আমি সত্যি জানতাম না। আমি শুধু সেটাই করে গেছি, যা আমি জানতাম, আমি সবচেয়ে ভালো পারি।
তাহলে আজকে আমি নিজের মতো করে আমার গল্প বলব। আমার মতে, জীবনের মাপকাঠি হলো হূদয়ের আর অভিজ্ঞতার পরিপূর্ণতা। এর বাইরে আর কিছুতেই তেমন কিছু যায়-আসে না। খ্যাতি, সাফল্য, সৌন্দর্য—এ সবকিছুর চেয়েও একটি পরিপূর্ণ হূদয়ের মূল্য অনেক বেশি।
আমি একজন অভিনেতা। জর্জ বার্নস বলেছিলেন, ‘অভিনয়ের মূলে রয়েছে সততা’। শুদ্ধ সততার সঙ্গে যখন আমি কোনো চরিত্র রূপ দিতে পারি, তখন সেটাই হয় প্রকৃত অভিনয়। শুদ্ধতম অভিব্যক্তিগুলো আসে অভিনেতার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে।
এটা সত্যি যে সৃষ্টি যখন সবার সামনে উন্মোচিত হয়, তখনই তা স্রষ্টার থেকে আলাদা হয়ে জনগণের সম্পদ হয়ে যায়। এমন অনেক রাত গেছে, আমি হয়তো কোনো পুরস্কার পেয়ে প্রচণ্ড খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে বাড়ি ফিরেছি। আর তারপর আবিষ্কার করেছি কোনো সমালোচক লিখেছে যে আমাকে পুরস্কারের বদলে কাঁচা কলা দেওয়া উচিত ছিল! রাগে, ক্ষোভে তখন মনে হয়, কাঁচা কলা আর সমালোচক—এই দুটিরই চামড়া ছাড়িয়ে বাঁদরদের উপহার দেওয়া উচিত! এমন মুহূর্তগুলোতে আমি ক্ষণিকের জন্য হাল ছেড়ে দিই, কিন্তু তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। যখন তুমি ভেঙে পড়বে, যখন সারা পৃথিবী তোমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে, তখন টিকে থাকার একটাই উপায়। আর তা হলো, তোমার প্রকৃত সত্তাকে আঁকড়ে ধরা। পৃথিবী তোমাকে না বুঝতে পারে, ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু অন্তত তোমার নিজেকে চিনতে হবে।
আমার বেলায় ব্যাপারটা একটা অদ্ভুত সমঝোতার মতো। আমি নিজের মতো অভিনয় করি, করতে চাই, আবার দর্শক আমার কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করে, সেটাও মাথায় রাখতে হয়। আমাকে একই সঙ্গে আমার সেরা কাজটা দিতে হয়, আবার আমি যাদের জন্য কাজ করছি, তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে যাতে আমি বিচলিত না হয়ে পড়ি, এটাও খেয়াল রাখতে হয়। আমি চেষ্টা করি লাইনচ্যুত না হতে। ভেতরে যা-ই চলতে থাকুক না কেন, বাইরে আমি ঠিকই হাসছি, অটোগ্রাফ দিচ্ছি। কখনো কখনো মনে হয়, আমি একটা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অভিনয় করে চলছি। আমার দর্শক হচ্ছে পথচারীরা, যারা আমাকে হাততালি দিচ্ছে খানিকটা কৌতুকের বশে, খানিকটা দয়া করে আর খানিকটা তাচ্ছিল্যভরে। কিন্তু দর্শক যারাই হোক না কেন, আমি জানি আমার অন্তর্নিহিত সত্তা ঠিকই আমার অভিনয় দেখছে, ভালো কাজের জন্য বাহবা দিচ্ছে, আমার বোকামিগুলো দেখে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে। তাই আমি বলব, নিজেকে চিনতে শেখো, নিজের ওপর থেকে কখনো বিশ্বাস হারিয়ো না। নিজের জীবন নিয়ে কখনো হতাশ হয়ো না। জীবনের ওপর হতাশা আর বিতৃষ্ণা তোমার যত ক্ষতি করবে, তেমনটা আর কোনো কিছুই করতে পারবে না।
নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখো।
সমালোচনা, নিন্দার ঊর্ধ্বে উঠে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। প্রচলিত নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করতে ভয় পেয়ো না। একলা চলতে দ্বিধা কোরো না।
তোমাদের বয়সে আমি যা চাইতাম, আজ আমার সেই সব কিছু আছে। আমি সাফল্য পেয়েছি, খ্যাতি পেয়েছি, আমার যথেষ্ট সম্পদ আছে। কিন্তু এসবের কোনো কিছুই আমাকে এতটা সুখ দেয়নি, যা দিয়েছে আমার সন্তানেরা। তোমরা এখনো বাবা-মা হওনি, কিন্তু তোমাদের বাবা-মা আছেন, যাঁরা তোমাদের অপরিসীম ভালোবাসেন। পৃথিবীর কোনো কিছুর সঙ্গেই তাঁদের ভালোবাসার কোনো তুলনা চলে না। খেয়াল করে দেখবে, সত্যিকারের সুখ এমন সব জিনিসে থাকে, যা কখনো গোনা যায় না।
আর দেখ, এই ভালোবাসার বিনিময়ে তাঁরা তোমাদের কাছ থেকে কিছুই চান না। তোমরা তাঁদের অনুভূতিগুলোকে একটু শ্রদ্ধার চোখে দেখবে, এটাই তাঁদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি দুটো অসম্ভব দুষ্টু শিশুর বাবা হয়ে বলছি। সন্তান হিসেবে তোমরা যা-ই করো না কেন, যত বড় ভুলই করো না কেন, বাবা-মায়ের চেয়ে বড় বন্ধু আর নেই। তোমাদের হয়তো মনে হতে পারে, তাঁরা বিরক্তিকর, একঘেয়ে, একগুঁয়ে। আমার সন্তানরাও আমায় তা-ই মনে করে। কিন্তু যদি কখনো কোনো ঝামেলায় পড়ো, তোমার মা-বাবাকেই তুমি সবচেয়ে নিশ্চিন্তে বিশ্বাস করতে পারো। আমি অনেক কম বয়সেই মা-বাবাকে হারিয়েছি, আমি জানি, তাঁদের আমি কতটা মিস করি।
একটা কথা মনে রেখো, সাফল্য অনেক আকাঙ্ক্ষিত হলেও, বেশির ভাগ সময়ই তা আমাদের বড় কিছু শেখাতে পারে না। আর সেজন্যই সফল হওয়ার চাবিকাঠি-জাতীয় কোনো উপদেশ আমি দেব না। সত্য কথা হলো, আমি যতটা সফল হয়েছি, তা পেরেছি কারণ আমি ব্যর্থতা মানতে পারতাম না। সফল হওয়ার জন্য আমি কখনো এতটা প্রাণপণ চেষ্টা করিনি, যতটা না করেছি ব্যর্থতাকে এড়ানোর জন্য। আমি খুব সাধারণ এক নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। দারিদ্র্য কী জিনিস তা আমি খুব স্পষ্টভাবে চোখের সামনে দেখেছি। আমি জানি, তার আসল রূপ কতখানি নিষ্ঠুর। যখন আমার বাবা-মা মারা যান, দারিদ্র্যের নিষ্ঠুরতার সঙ্গে আর একটি শব্দ যোগ হয়—ব্যর্থতা। আমি কোনোমতেই আর দরিদ্র থাকতে চাইনি। তাই যখন আমি প্রথম অভিনয় শুরু করি, তার সঙ্গে সৃজনশীলতার কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি যেসব সিনেমা করতাম, তার বেশির ভাগই ছিল অন্যদের ফেলে দেওয়া চরিত্র, অথবা এমন কিছু, যাতে কেউই অভিনয় করতে রাজি হয়নি। আমি সেসব চরিত্রের প্রতিটিতে অভিনয় করেছি, শুধু একটা কারণে, যাতে আমাকে বেকার বসে না থাকতে হয়। এসব করতে করতেই একসময় আমি বড় অভিনেতা হলাম। সাফল্য তার নিজের নিয়মেই আমার জীবনে এসেছে, আমি আমার নিজের কাজটুকু করেছি মাত্র। তাই আমার মনে হয়, ব্যর্থতার যথেষ্ট ভয় না থাকলে, ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকলে সফল হওয়া কঠিন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি কিছু কথা বলতে পারি।
১. ব্যর্থতা না থাকলে সফল হওয়া কঠিন। ব্যর্থ হওয়ার পর তোমার প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করে তুমি এরপর সফল হবে কি না। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, যদি একটা উপায় কাজ না করে, তাহলে অন্য কোনো একটা নিশ্চয়ই করবে। তাই আমি চেষ্টা করে যাই।
২. একবার ব্যর্থ হলে আমি আরও বেশি কাজ করা শুরু করি, আরও বেশি চেষ্টা করতে থাকি। বেশির ভাগ সময় এতেই সাফল্য এসে ধরা দেয়।
৩. যখন একের পর এক ব্যর্থতা আসতে থাকে, তখন বুঝতে পারি, আমি হয়তো আমার নিজের সত্তাকে ভুলে আমি যা নই তা হতে চাইছি। তখন আমি আবার নিজের মধ্যে ফিরে আসি, যা আমার কাছে সত্যিকার অর্থেই গুরুত্ব বহন করে, আমি শুধু তাতেই মনোযোগ দিই।
৪. ব্যর্থতা তোমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে কে তোমার প্রকৃত বন্ধু আর কে নয়। সংকটের মুহূর্তগুলোতেই আমাদের সম্পর্কগুলোর পরীক্ষা হয়ে যায়।
৫. যখন আমি ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠি, তখন নিজেকে আরও ভালো করে চিনতে পারি। নিজের সম্ভাবনাগুলোকে আবার নতুন করে আবিষ্কার করি। এভাবেই আমার আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।
জীবনটা আসলে কতগুলো অর্জন, সাফল্য, যোগ্যতা আর পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনকে জানো, স্বপ্ন দেখো; ব্যর্থ হলে ঘুরে দাঁড়াও। তোমার যা আছে তার উপযুক্ত মূল্য দিতে শেখো। লোকের কথায় কান দিয়ো না আর ব্যর্থতাকে ভুলে যেয়ো না। নিষ্ঠুর হলেও সে-ই প্রকৃত বন্ধু।

শাহরুখ খানকে চিনে না এমন কেউ নেই। তারপর মাঝে মাঝে শাহরুখ খানের মুভির তালিকা তার জীবন সম্পকে জানেত ইচ্ছা করে অনেকের। আমি google এ সার্চ দিলাম এই নিয়ে দেখি ওনার জীবনি সম্পকে কিছু জানতে পারি কি না। অবশেষে বেশ কিছু লেখা পেলাম। সেই লেখাটা কপি করে দিলাম।

শাহরুখ দিল্লীর পাঠান মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা তাজ মোহম্মদ খান ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতাসংগ্রামী এবং মা লতিফ ফাতিমা ছিলেন একজন ম্যাজিষ্ট্রেট ও সমাজসেবী। যিনি জাঞ্জুয়া রাজপুত পরিবারের মেজর জেনারেল শাহ নওয়াজ খানের কন্যা। শাহ নওয়াজ খান সুভাষ চন্দ্র বোসের অধীনে আজাদ হিন্দ ফৌজের অধিনায়ক ছিলেন।

শাহরুখ খানের পিতা ভারত ভাগের আগে বর্তমান পাকিস্তানের পেশোয়ারের কিসসা কহানী বাজার থেকে দিল্লীতে চলে আসেন। তার মায়ের বাড়ি ছিল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। শাহরুখ খানের শেহনাজ নামে একজন বড় বোন রয়েছে।

শাহরুখ দিল্লীর সেইন্ট কলম্বাস স্কুলে পড়তেন এবং এখানে তিনি ক্রীড়া, নাটক ও পড়াশোনায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। এখানে তাকে সম্মানজনক সোর্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি হন্সরাজ কলেজ থেকে (১৯৮৫-১৯৮৮) অর্থনীতিতে সম্মান ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “মাস কম্যুনিকেশন” নিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন।

তার পিতামাতার মৃত্যুর পর ১৯৯১ সালে শাহরুখ খান নতুনভাবে জীবন শুরু করার জন্য নতুন দিল্লী ত্যাগ করে মুম্বাইতে আসেন। ১৯৯১ সালে তিনি গৌরী (ছিব্বর) খানকে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান, ছেলে আরিয়ান খান (জন্ম ১৯৯৭) ও মেয়ে সুহানা খান (জন্ম ২০০০)।

যুক্তরাজ্যের চলচ্চিত্র প্রযোজক নাসরিন মুন্নি কবির শাহরুখ খানের জীবন অবলম্বনে দুই খন্ডের ডকুমেন্টারি তৈরী করেছেন, দ্য ইনার এন্ড আউটার ওয়ার্ল্ড অব শাহ রুখ খান (২০০৫) নামে। এতে শাহরুখ খানের ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত টেম্পটেশন কনসার্ট ট্যুরের বিভিন্ন সময়ে নেয়া সাক্ষাৎকার চিত্রিত হয়েছে। সম্প্রতি আরেকটি আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়েছে “স্টিল রিডিং খান” (২০০৬) নামে যাতে শাহরুখ তার পরিবার ও জীবন নিয়ে কথা বলেছেন।

শাহরুখ খানকে ফরাসি সরকার চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ “Ordre des Arts et des Lettres” (অর্ডার অফ দ্য আর্টস এন্ড লিটারেচার) সম্মাননায় ভুষিত করেছে। লন্ডনে মাদাম তুসোর মোম জাদুঘরে তার মুর্তি রয়েছে।

ক্যারিয়ার

অভিনেতা

১৯৮৮ সালে ফৌজী টেলিভিশন সিরিয়ালে কমান্ডো অভিমন্যু রাই চরিত্রের মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে সার্কাস সিরিয়ালে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকায় অভিনয় করেন, যেটি ছিল একজন সাধারন সার্কাস অভিনেতার জীবন নিয়ে রচিত। একই বছর তিনি অরুন্ধতী রায়ের In Which Annie Gives it Those Ones টেলি-চলচ্চিত্রে গৌণ চরিত্রে অভিনয় করেন। তার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর নতুন জীবন শুরু করার লক্ষ্যে শাহরুখ নয়াদিল্লী ছেড়ে মুম্বাই পাড়ি জমান।

ফৌজীতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হেমা মালিনীর চোখে পড়েন যিনি শাহ রুখ খানকে তার অভিষেক ছবি দিল আশনা হ্যায়তে অভিনয়ের সুযোগ দেন। দিওয়ানা (১৯৯২) ছবির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রের জগতে যাত্রা শুরু করেন। এ ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন দিব্যা ভারতী। ছবিটি ব্যবসাসফল হয় এবং তিনি বলিউডে আসন গাড়তে সক্ষম হন। আসলে তার প্রথম ছবি হওয়ার কথা ছিল দিল আশনা হ্যায় কিন্তু দিওয়ানা প্রথমে মুক্তি পায়। একই বছরে তিনি আরও কিছু ছবি যেমন চমৎকার, বিতর্কিত আর্ট ফিল্ম মায়া মেমসাবে অভিনয় করেন।

১৯৯৩ সালে বাজিগর ও ডর ছবিতে খলচরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিপুল খ্যাতি পান। ডর ছবিতে শাহরুখ একজন অপ্রকৃতস্থ প্রেমিক এর ভূমিকায় অভিনয় করেন, ছবিটি খুব সাফল্য লাভ করে এবং তিনি তারকা খ্যাতি পান। বাজিগর ছবির জন্য তিনি তার ক্যারিয়ারের প্রথম ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি কভি হাঁ কভি না ছবিতে একজন ব্যর্থ যুবক ও প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেন যার কারনে তিনি সমালোচকদের রায়ে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা নির্বাচিত হন।

১৯৯৪ সালে তিনি আঞ্জাম ছবিতে অভিনয় করেন যেটি ব্যবসাসফল হয়নি। তবে সাইকোপ্যাথ হিসেবে তার অভিনয় সমাদৃত হয় এবং তিনি ১৯৯৫ সালে ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ ভিলেন পুরষ্কার লাভ করেন।

১৯৯৫ ছিল তার জন্য খুব সাফল্যের বছর। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে বক্স অফিস রেকর্ড ভাঙ্গে এবং এর সব কৃতিত্ব পান তিনি। ছবিটি ৫২০ সপ্তাহের বেশি প্রদর্শিত হয়। ভারতের সর্বাধিকবার প্রচারিত ছবি হিসেবে যাকে তুলনা করা যায় শোলের সাথে যা ২৬০ সপ্তাহ চলেছিল। ছবিটি বর্তমানে বারো বছর ধরে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং প্রায় ১২ বিলিয়ন রুপির চেয়েও বেশি অর্থ আয় করেছে।

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গের পর তিনি বেশ কটি ছবিতে সাফল্য পান, যার অধিকাংশই ছিল প্রেম-কাহিনী। যশ চোপড়া এবং করন জোহরের সাথে মিলে তিনি বলিউডে সফলতা পেতে থাকেন। এসব চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ পরদেশ, দিল তো পাগল হ্যায় (১৯৯৭), কুছ কুছ হোতা হ্যায় (১৯৯৮), মোহাব্বতে (২০০০), কভি খুশি কভি গম (২০০১), কাল হো না হো (২০০৩) এবং বীর-জারা(২০০৪)। এছাড়া অন্যান্য পরিচালক যেমন, আজিজ মির্জার ইয়েস বস (১৯৯৭), মনসুর খানের জোশ (২০০০) এবং সঞ্জয় লীলা বনসালির দেবদাস (২০০২) ব্যবসা সফল হয়।

আঞ্জাম (১৯৯৪), দিল সে (১৯৯৮), স্বদেশ (২০০৪) ও পহেলি (২০০৫) ছবির জন্য শাহ রুখ খান সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

২০০৬ সালে করন জোহরের কভি আলবিদা না কেহনা (২০০৬) ছবিটি ভারতে মোটামুটি ব্যবসা করলেও বিদেশে ব্যবসাসফল হয়। একই বছরে ডন ছবিতে অভিনয় করেন যেটিও ব্যবসাসফল হয়েছিল।

২০০৭ সালে শাহরুখের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল চাক দে ইন্ডিয়া। বাণিজ্য সফল এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য শাহরুখ সপ্তমবারের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান। তাঁর অন্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ওম শান্তি ওম ২০০৭ সালের সবচেয়ে বাণিজ্য সফল ছবি।

২০০৮ সালে শাহরুখের রব নে বানা দি জোড়ি ছবিটি খুব ভাল ব্যবসা করে ।

বর্তমানে সারা বিশ্বে বলিউডের জনপ্রিয়তম ব্যাক্তিত্বদের মধ্যে শাহরুখ খান অন্যতম। তাঁর অভিনীত হে রাম,দেবদাস এওং পহেলি ভারত থেকে অস্কার এ পাঠানো হয়েছিল। শাহরুখ-কাজল জুটি বলিউডের অন্যতম সেরা জুটি হিসেবে স্বীকৃত। কাজলের সাথে তাঁর অভিনীত বাজীগর,দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে, করন অর্জুন, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, কভি খুশি কভি গম। এই ৫টি ছবিই ব্যবসা-সফল হয়। ১৫ বছরের অভিনয়জীবনে তিনি ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয়দের কাতারে অমিতাভ বচ্চন-এর পরবর্তীস্থান এর শক্ত দাবিদার।

শাহরুখ খান এবং তার পরিবার

প্রযোজক

শাহরুখ খান বিভিন্ন ছবি প্রযোজনাতেও হাত দিয়েছেন। তবে এখানে তার সাফল্য মিশ্র প্রকৃতির। ১৯৯৯ সালে তিনি পরিচালক আজিজ মির্জা ও অভিনেত্রী জুহি চাওলার সাথে তিনি ড্রিমজ আনলিমিটেড নামে একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম দুটি ছবি ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি (২০০০) এবং অশোকা (২০০১) ব্যবসাসফল হয়নি।

তার প্রযোজিত তৃতীয় ছবি চলতে চলতে (২০০৩) ব্যবসাসফল হয়, ২০০৪ সালে তিনি আরেকটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট নাম দিয়ে এবং এখান থেকে ম্যায় হুঁ না (২০০৪) চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন যা বলিউডে দারুন ব্যবসা করে। ২০০৫ সালে তিনি কল্পকাহিনী নিয়ে পহেলি চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন যা অ্যাকাডেমি পুরস্কারের জন্য ভারত থেকে মনোনয়ন পায়, তবে পুরষ্কার জিততে পারেনি। ভারতের চলচ্চিত্র জগতে পহেলি তেমন সফলতা পায়নি। একই বছর তিনি কাল নামে একটি চলচ্চিত্র সহ-প্রযোজনা করেন। এ ছবিতে তিনি অভিনয় না করলেও একটি গানের দৃশ্যে মালাইকা অরোরা খানের সাথে অভিনয় করেন। কাল মোটামুটি সফলতা পায়।

রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট থেকে নির্মিত পরের ছবি ওম শান্তি ওম ২০০৭ সালের সবথেকে সফল ছবি। এইছবিতে ৩০ জনের বেশি নামী অভিনেতা একটি গানের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন।

টেলিভিশন উপস্থাপক

জনপ্রিয় ব্রিটিশ গেম শো হু ওয়ান্টস টু বি আ মিলিয়নিয়ার? এর হিন্দি সংস্করন কৌন বনেগা ক্রোড়পতি এ তিনি সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি সাবেক উপস্থাপক অমিতাভ বচ্চনের কাছ থেকে দায়িত্ব নেন যিনি ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এটি উপস্থাপনা করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। ভারতের টেলিভিশনের ইতিহাসে এটি অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি সোমবার শাহরুখ খান কেবিসি এর তৃতীয় মরশুম শুরু করেন। এই মরশুম শেষ হয় ২০০৭ সালের ১৯ এপ্রিলে। ২৫ এপ্রিল ২০০৮ থেকে শাহরুখ আর ইউ স্মার্টার দ্যান আ ফিফথ গ্রেডার? এর হিন্দি সংস্করণ ক্যা আপ পাঁচবি পাস সে তেজ হ্যায়? এর সঞ্চালকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

ক্রিকেটে শাহরুখ (কলকাতা নাইট রাইডার্স)

শাহরুখ খান, তাঁর রেড চিলিস এন্টারটেনমেন্ট এর মাধ্যমে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ এর দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের অন্যতম মালিক। তিনি এবং তাঁর বন্ধু ও সহ-অভিনেত্রী জুহি চাওলার স্বামী জয় মেহতা এই দলটিকে কিনে নেন। প্রসংগত উল্লেখ্য যে শাহরুখ, কলকাতা ছাড়াও দিল্লী, মুম্বাই, চন্ডীগড় এবং জয়পুরের জন্য দরপত্র দিয়েছিলেন।

সম্মাননা

আন্তর্জাতিক সম্মাননা

  • ২০০৭ – ফরাসি সরকার কর্তৃক Ordre des Arts et des Lettres (শিল্পকলা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি) উপাধি লাভ
  • ২০০৬ – দুবাইয়ের গভর্নর প্রদত্ত সম্মাননা
  • ২০০৬ – মাদাম তুসোর মোমের জাদুঘরে স্থাপনা মুর্তি

ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার

  • ২০০৮ – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – চাক দে ইন্ডিয়া
  • ২০০৪ – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – স্বদেশ
  • ২০০২ – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – দেবদাস
  • ২০০০ – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, সমালোচকদের রায়ে – মোহাব্বতে
  • ১৯৯৮ – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – কুছ কুছ হোতা হ্যায়
  • ১৯৯৭ – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – দিল তো পাগল হ্যায়
  • ১৯৯৫ – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে
  • ১৯৯৪ – শ্রেষ্ঠ ভিলেন – আঞ্জাম
  • ১৯৯৩ – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, সমালোচকদের রায়ে – কাভি হাঁ কাভি না
  • ১৯৯৩ – শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – বাজীগর
  • ১৯৯২ – শ্রেষ্ঠ উদীয়মান অভিনেতা – দিওয়ানা

বিশেষ পুরষ্কার

  • ২০০২ – ফিল্মফেয়ার বিশেষ পুরষ্কার সুইস কনস্যুলেট ট্রফি
  • ২০০৩ – ফিল্মফেয়ার শক্তি পুরষ্কার (যৌথভাবে – অমিতাভ বচ্চনের সাথে)
  • ২০০৪ – ফিল্মফেয়ার শক্তি পুরষ্কার

অন্যান্য চলচ্চিত্র পুরষ্কার

  • স্টার স্ক্রীন অ্যাওয়ার্ডস – ৭
  • ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস – ২
  • জি সিনে পুরষ্কার – ৬
  • বলিউড মুভি অ্যাওয়ার্ডস – ৪
  • গ্লোবাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস – ২
  • রুপা সিনেগোয়ার পুরষ্কার – ১০
  • সানসুই ভিউয়ার’স চয়েস মুভি পুরষ্কার – ৬
  • আফজা পুরষ্কার – ২
  • আশীর্বাদ পুরষ্কার – ১
  • ডিজনি কিডস চ্যানেল পুরষ্কার – ১
  • এম.টি.ভি. পুরষ্কার – ১
  • স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড পুরষ্কার – ১
  • সাহারা ওয়ান সংগীত পুরষ্কার – ১ (আপুন বোলা গানের জন্য শ্রেষ্ঠ নায়ক ও গায়ক)

জাতীয় সম্মাননা

  • ১৯৯৭ – শ্রেষ্ঠ ভারতীয় নাগরিক
  • ২০০২ – রাজীব গান্ধী পুরষ্কার
  • ২০০৫ – পদ্মশ্রী পুরষ্কার, ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ সরকারী সম্মান
  • ২০০৭ – আওয়াদে আহমেদ ফারাহ

অন্যান্য

  • ২০০১ – জেড ম্যাগাজিন (Jade Magazine) পুরষ্কার এশিয়ার সবচেয়ে যৌনাবেদনময়ী পুরুষ
  • ২০০৪ – এশিয়ান গিল্ড (Asian Guild) পুরষ্কার বলিউডের যুগের শ্রেষ্ঠ তারকা
  • ২০০৪ – পেপসি সবচেয়ে প্রিয় তারকা পুরষ্কার
  • ২০০৪ – ‘এফ-পুরষ্কার’ ভারতীয় ফ্যাশন তারকা মডেল
  • ২০০৪ – ছোট কা ফুন্ডা পুরষ্কার
  • ২০০৪ – টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ
  • ২০০৪ – সবচেয়ে তেজ বছরের শ্রেষ্ঠ পারসোনালিটি
  • ২০০৪ – এম.এস.এন. বছরের শ্রেষ্ঠ সার্চ পারসোনালিটি পুরষ্কার
  • ২০০৫ – ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ
  • ২০০৬ – “হামীর-ই-হিন্দ” খেতাব, “দেশভক্ত” সংবাদপত্র থেকে

অভিনয়কৃত চরিত্রের নাম

তিনি সর্বাধিক রাহুল নামবিশিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এখানে কিছু অভিনীত চরিত্রের নাম ও সিনেমার নাম দেওয়া হল।

রাহুল – ডর, জামানা দিওয়ানা, ইয়েস বস, দিল তো পাগল হ্যায়, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, হর দিল যো পেয়ার করেগা, কাভি খুশি কাভি গাম

রাজ – দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে, বাদশা, মোহাব্বতে, চলতে চলতে

বিজয় – আনজাম, করন অর্জুন, ডন

ছবির তালিকা

বছর ছবির নাম চরিত্র টুকিটাকি
  ২০১০
মাই নেম ইজ খান
রিজওয়ান খান
কুচি কুচি হোতা হে রকি নির্মাণ চলছে
দুলহা মিল গ্যায়া অতিথি চরিত্র
২০০৯ লাক বাই চান্স নিজ় বিশেষ উপস্থিতি
বিল্লু শায়ের খান
২০০৮ রব নে বনা দি জোড়ি সুরিন্দর সানি/রাজ মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
শৌর্য ভাষ্য
ক্রেজি ৪ বিশেষ উপস্থিতি “ব্রেক ফ্রি” গানে
ভুতনাথ বিশেষ উপস্থিতি
২০০৭ চাক দে ইন্ডিয়া কবির খান বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতা
হেই বেবি বিশেষ উপস্থিতি “মস্ত কলন্দর” গানে
ওম শান্তি ওম ওমপ্রকাশ মাখিজা/ওম কাপুর ২০০৭ এর সেরা বাণিজ্য সফল ছবি
ডন ২ ডন পরিকল্পনা চলছে
২০০৬ আলগ বিশেষ উপস্থিতিসবসে আলগ গানে
কাভি আলবিদা না কেহনা দেব সারন মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
ডন ডন/বিজয় মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
আই সি ইউ বিশেষ উপস্থিতিসুবাহ সুবাহ হানে
২০০৫ The Inner and Outer World of Shah Rukh Khan নিজ (আত্মজীবনী) নাসরিন মুন্নি কবির এর পরিচালনায় আত্মজীবন
পহেলি কিষেণলাল/ভুত ভারতের অস্কার মনোনয়ন
সিলসিলে সূত্রধর, বিশেষ উপস্থিতি
কাল বিশেষ উপস্থিতিকাল ধামাল গানে
কুছ মিঠা হো যায়ে নিজ, বিশেষ উপস্থিতি
২০০৪ স্বদেশ মোহন ভার্গভ বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
হাম হ্যায় লাজওয়াব মি. লাজওয়াব “The Incredibles” এর হিন্দি ডাবিং
বীর-জারা বীর প্রতাপ সিং মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
ম্যায় হুঁ না মেজর রাম প্রসাদ শর্মা মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
ইয়ে লমহে জুদাই কে দুশন্ত এই ছবি বানাতে প্রায় ১০ বছর লেগেছে
২০০৩ কাল হো না হো আমন মাথুর মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
চলতে চলতে রাজ মাথুর
২০০৩ সাথিয়া যশবন্ত রাও, বিশেষ উপস্থিতি
শক্তি: দ্য পাওয়ার জয় সিং, বিশেষ উপস্থিতি
দেবদাস দেবদাস মুখার্জি বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার, অস্কার প্রতিযোগিতায় ভারতের ছবি
হাম তুমহারে হ্যায় সনম গোপাল
২০০১ কাভি খুশি কাভি গাম রাহুল রায়চাদ মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
অশোকা অশোকা
ওয়ান টু কা ফোর অরুন ভার্মা
২০০০ গজ গামিনী শাহরুখ, বিশেষ উপস্থিতি
মোহাব্বতে রাজ আরিয়ান মেলহোত্রা বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার সমালোচকের রায়ে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
হার দিল যো পেয়ার কারেগা রাহুল, বিশেষ উপস্থিতি
জোশ ম্যাক্স
হে রাম আমজাদ আলি খান ভারতের অস্কার মনোনয়ন
ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি অজয় বকশি শাহরুখের প্রথম প্রযোজনা
১৯৯৯ বাদশা রাজ ‘বাদশা’ হীরা মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ কমেডিয়ান পুরস্কার
১৯৯৮ কুছ কুছ হোতা হ্যায় রাহুল খান্না বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
দিল সে অমরকান্ত ভার্মা
আচানক বিশেষ উপস্থিতি
ডুপ্লিকেট বাবলু চৌধুরি/মনু দাদা মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ ভিলেন পুরষ্কার
১৯৯৭ দিল তো পাগল হ্যায় রাহুল বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
পরদেশ অর্জুন সাগর
ইয়েস বস রাহুল জোসি মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
কয়লা শঙ্কর
গুদগুদি বিশেষ উপস্থিতি
১৯৯৬ দুশমন দুনিয়া কা বাদ্রু, বিশেষ উপস্থিত
আর্মি অর্জুন, বিশেষ উপস্থিতি
চাহত রূপ রাঠোর
ইংলিশ বাবু দেশি মেম বিক্রম/হ্যারি/গোপাল মায়ুর
১৯৯৫ ত্রিমুর্তি রমি সিং/ভোলে
রাম জানে রাম জানে
দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে রাজ মেলহোত্রা বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
ওহ ডার্লিং! ইয়ে হ্যায় ইন্ডিয়া হিরো
গুড্ডু গুড্ডু বাহাদুর
জমানা দিওয়ানা রাহুল মেলহোত্রা
করন অর্জুন অর্জুন সিং/ভিজয়
১৯৯৪ আঞ্জাম বিজয় অগ্নিহোত্রী বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ ভিলেন পুরষ্কার
১৯৯৩ কাভি হা কাভি না সুনীল বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার সমালোচকদের রায়ে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
ডর রাহুল মেহরা মনোনীত, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ ভিলেন পুরষ্কার
বাজীগর অজয় শর্মা/ভিকি মেলহোত্রা বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরষ্কার
কিং আঙ্কেল অনিল
১৯৯২ দিওয়ানা রাজা সাহাই বিজয়ী, ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিষেক পুরস্কার
মায়া মেমসাব ললিত
দিল আশনা হ্যায় করন
রাজু বান গেয়া জেন্টলম্যান রাজু (রাজ মাথুর)
চমৎকার সুন্দর শ্রীনিবাস্তব
১৯৮৮ In Which Annie Gives it Those Ones

প্রযোজক

  • ওম শান্তি ওম (২০০৭)
  • মাই নেম ইজ অ্যান্থনি গঞ্জালভেজ (২০০৭)
  • কাল (২০০৫)
  • পেহেলি (২০০৫)
  • ম্যায় হু না (২০০৪)
  • চলতে চলতে (২০০৩)
  • আশোকা (২০০১)
  • ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি (২০০০)

টিভি ক্যারিয়ার

  • দিল দরিয়া (১৯৮৭)
  • ফৌজী (১৯৮৮) – অভিমন্যু রাই
  • সার্কাস (১৯৮৯)
  • In Which Annie Gives It Those Ones (১৯৮৯)
  • দুসরা কেওয়াল
  • ইডিয়ট (১৯৯১) – পবন রঘুজান
  • কারিনা কারিনা (২০০৪) – বিশেষ উপস্থিতি
  • কৌন বনেগা ক্রোড়পতি (২০০৭) – সঞ্চালক
  • আন্তাক্ষরী দ্য গ্রেট চ্যালেঞ্জ (২০০৭) – বিশেষ অতিথি
  • ক্যা আপ পাঁচবী পাস সে তেজ হ্যায়? (২০০৮) – সঞ্চালক

কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়জুড়ে আছে শাহরুখ, শাহরুখ থাকবে…

——————————————————

বেশিরভাগ সময় সফটয়্যার দিয়ে আমি টিউন করে থাকি কিন্তু আজ ইচ্ছে হলো অন্য রকম টিউন করার। টিউনটি করার সময় আমাকে একটু দ্বিধায় পরতে হয়েছে কারন টেকটিউনস্ হলো প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট আর এই সাইটে আমার এই টিউনটি আপনারা কিভাবে নিবেন, আশা করি শাহরুখ খান ভালোভাবে জানতে আমার টিউনটি কাজে আসবে। আপনাদের মন্তব্যের উপর নির্ভর করবে আসলে টিউনটি কতটা মানানসই টেকটিউনসে এবং পরবর্তীতে আরো ভিন্ন কিছু টিউন করতে। সবাই ভালো থাকবেন সেই শুভ কামনা সবসময়……

শুভকামনায়

সূত্র: সহায়ক এক
ইংরেজীতে মূল : 
এখানে