"ও আমার দেশের মাটি "একটি প্রশ্ন ও কিছু ডাউনলোড,ও কিছু কথা … এবং আমার বিজয় দিবস

5
9

সকালে ঘুম ঘুম চোখে ঘুম থেকে উঠে আমার প্রথম কাজ হয় পিসি অফ করা। সারা রাত ডাউনলোড দিয়ে রাখি। সকালে যদি ভাইয়া দেখে আমার পিসি ওপেন করা তাহলে তো কথাই নেই। সুন্দর সুন্দর কিছু কথা বলবে। যেগুলো শুনলে আমার মেজাজা খারাপ হয়ে যায়। বড় ভাইয়েরা এত ঝালায় তা বলার মত না :(মাঝে মাঝে মন চায় !!! যদি আমি যদি বড় হতাম তাহলে আমার ভাইটাকে সারাদিন বকা উপর রাখতাম । আমার ভাবতে ভাল লাগে আমি বড় এবং চোখ বন্ধ করে কল্পনা করি আমি বড় ভাই হয়ে গেছি এবং ভাইয়া আমার ছোট ভাই হয়ে গেছে তখণ মন মত বকাঝকা করতে থাকি ভাইয়াকে কল্পানায 😛 😀
আজ আমার ব্যাস্ততা একটু কম অন্য দিনগুলো থেকে। অনেকদিন ব্লগে লিখি না। অন্যান্য ব্লগুলো পড়া হয়না বেশ কিছুদিন যাবত। তাই ভাবলাম আজ একটু ব্লগগুলো লেখা পড়ব ।
ইদানিং সময়টা কোন দিয়ে যাচ্ছে একধুম টেরই পাচ্ছি না। এই সকাল হচ্ছে এই দুপুর এই বিকাল এই রাতের ঘুম এভাবে যেন খুব দ্রুত সময় পার হয়ে যাচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে একধুম পারছি না। আজ তারিখ হল ১.১২.২০১১  আমার বিজয়ের মাস শুরু । প্রথমে ব্যাপারটি লক্ষ্য করলার ফেইসবুকে সবাই নিজেদের প্রোফাইল ছবি পরিতর্বন করা দেখে অনেককে দেখলাম যদি পরিবর্তন করছে। ব্যাপারটা খুব ভাল লাগল দেখে। সত্যি কিছু মানুষের হলেও মনে আছে এই মাসটির কথা। সকালে উঠে এটা দেখি মনটা ভাল হয়ে যেতে চাইল

৪৭ জন তাদের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করেছে। র্ভাচুয়াল জগতের মানুষরা একটু হলেও মনে রেখেছি এই মাসটিকে। ব্যাপারটা দেখতে ভাল লাগছে আমারা যে সারা বাংলাদেশি ফেইসবুক ইউজার সবার প্রোফাইলে ছবি বাংলাদেশের পতাকা। লাল সবুজ …….
যদি সবাই পরির্বতন করত তাহলে ব্যাপার সত্যি অনেক সুন্দর দেখাত শুধু সুন্দর এর জন্য 🙁
বাহিরের বিশ্বে যে কেউ দেখলে তাজ্জ্বব হবে একটুকু হলেও বুঝতে পারতে যে আজ থেকে আমাদের বিজয়ের মাস শুরু। আমি দেখিছি অনেক এই ধরনের কথা গুলো দেখলে মনে মনে বলে “ইস আমার দেশ প্রেম । সারা বছর কই ছিল দেশ প্রেম…….বিজয়ের মাস এলে হুস হয় তাই না ”
তাদের এই কথা জবাব অনেকবার দিয়েছি। আর দিব না।
যে কারনে আমার এই লেখা টি সেইটা বলা হচ্ছে না। আসলে কথা প্রসঙ্গে অণেক কথা চলে আসে। মূল কথায় আসি ।
সকাল যখন ব্লগগুলো পড়াশুরু করলাম একটা ব্লগে আমার চোখ একটু আটকে গেল

প্রশ্ন”???”

বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমি সিউর না যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা কে করছে। কারন আমি আমার বইতে দেখি ১ রকম, আমার আপুর বইতে দেখি ১ রকম, আন্টির বইতে দেখি ১ রকম। “হাঙ্গর নদীর গ্রেনেড” মুভিতে দেখি ১ জন, গেরিলা মুভিতে দেখি অন্য রকম। বাদ দিলাম এই ২ টা,
সৌভাগ্যক্রমে, আমাদের আত্মীয়দের মধ্যে ২ জন মুক্তিযোদ্ধা আছে, আরও মজার ব্যাপার হল ৩ জনই ৩ দলের, ১ জন আওয়ামী-লীগ, ১ জন বিএনপি। আমি ৩ জনের কাছে ভিন্ন ভাবে জিজ্ঞাসা করছি, তিন জনেই বলছে তিন রকম কথা। একজন বলছে ইনি, অন্যজন বলছে উনি… আসলে কে?
ইনি, উনি, নাকি অন্য কেউ…………
প্রশ্ন থাকলো ???????????

 “

 

একজন ব্লগার এই প্রশ্নটা অযুক্তিক না। আমিও নিজেও এক সময় এই প্রশ্নের উওর খুজে পেতাম না। ওনার ব্লগে এই লেখা আমি আমি যে মন্তব্যটি করেছিলাম তা এখানে তুলে দিচ্ছি

“আমি নিজের মাঝে মাঝে প্রশ্ন খুজে পাইনি অণেক দিন।
ক্লাস নাইনে সমাজ বইতে বাংলাদের মুক্তিযোদ্ধ অধ্যায় সুন্দর করে সবার কথা বলা আছে। বলা আছে মুক্তিযোদ্ধের কথা , বলা আছে যুদ্ধের সময় বিভিন্ন ব্যাক্তি অবদানের কথা, পাকিস্থানীদের কথা কিন্তু ক্লাস নাইনে সমাজ বই মুক্তিযোদ্ধ অধ্যায় রাজাকার শব্দটার কথা আমি খুজে পেলাম না।ঘটনাটা ২০০৯ এ। এখন পরিবর্তন হয়েছি কি না জানি। তখন আমার মনে প্রশ্ন হল তাহলে কি রাজাকার ছিল না ?? কি আজব আমাদের এই গুনী নেতারা।
আমার কাছে মনে হয় স্বাধীনতা ঘোষকের সাথে যুক্ত সারা বাংলাদেশী যারা রক্ত দিয়েছে অথবা কোন না কোন ভাবে দেশকে সাহায্য করেছে। যেটা হতে পারে মুক্তিযোদ্ধের একমুঠো ভাত দিয়েও।
আর আমি আপনাকে অনুরোধ করব জাফর ইকবালের স্যারের লেখা “মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস বইটা পড়ার জন্য”
আশা করি আপনার প্রশ্ন উওর পাবেন। বইয়ের ডাউনলোড লিংকটি আমার কাছে নেই । খোজ পেলে আপনাকে জানাব।
ভাল থাকবেন”
লেখাটি পড়ার পর আমি কিছুটা সময় চুপ করে ছিলাম। সত্যি আমার কতটা মিথ্যার মধ্যে দিয়ে বড় হচ্ছি।

বাংলাদের স্বাধীনতার ঘোষনা কে করে ??
এক এক স্থানে এক এক রকম ??
কেউ বলে একজন কেউ বলে অন্য একজন
আমার মত ছোটরা তো একটু চিন্তায় পড়ে যায় যারা একাত্তর দেখি নি।” ফেইসবুকে এই স্ট্যাটাট টি দিলাম।
অনেক দিন পর আজ আমার বুক সেলফটার দিকে তাকালাম এবং মুক্তিযোদ্ধের কয়েকটা বই হাতে নিয়ে পৃষ্টা উল্টিয়ে দেখলাম। ৭১দিনগুলো জাহানারা ইমামের বইটার কয়েকটি পৃষ্টা পড়লাম।   বই সংগ্রহের অভ্যাস এখন একটু অন্য রকম হয়ে গেছে আগে বই কিনে সংগ্রহ করতাম আর এখন বই ডাউনলোড করে সংগ্রাহ করি। তবে কাগজে বই পড়ার মজাটা ইবুকে পাওয়া যায় না। যারা এখনো জাহানারা ইমামের বইটি পড়েননি আমি তারা বইটি পড়ে দেখুন একটি বার ডিসেম্বর মাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে হলেও। কিছু হলেও বুঝতে পারবেন কেমন ছিল সেই বয়াল দিনগুলো। এখনো একটা বইয়ের কথা খুব মনে পড়ে স্যার জফর ইকবার স্যারের “আমার বন্ধু রাশেদ ” বইটির কথা এই বইটি আমার কতবার পড়েছির তা মনে নেই। কম করে হলেও ১৫-১৬ বার পড়েছি। প্রথমবার যখন পড়ি তখন তো আমার চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে :'( ।
লুকিয়ে লুকিয়ে গল্পের বই পড়ার দিনগুলো যেন চোখের সামন ভেসে উঠছে আজ।
এবার একটু প্রসঙ্গ পরিবর্তন করি
জাফর ইকবার স্যারের মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস বইটির আমার জানা মতে ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট বই বলে মনে হচ্ছে। মাএ ২২ পৃষ্টায় কত সুন্দর করে মুক্তিযোদ্ধকে তুলে ধরেছে। কেমন করে লেখা হল এই বইটি ??? বইটি লেখার ইতিহাসটা কেমন ছিল আমার খুব জানতে আগ্রাহ ছিল তখন ছুটির দিনে এটা নিয়ে একটা লেখা প্রকাশ করা হয়েছিল। কি খুব জানতে ইচ্ছা করছে তাই না দেখুন কেমন করে লেখা হল “মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস বইটা লেখার ইতিহাস”
আমি সেবার বইমেলায় গিয়েছিলাম শুধু মাএ এই বইটি কিনার জন্য। প্রথমে ভেবেছিলাম না জানি বইটা কত বড় হবে। ইতিহাসের বই বলে কথা । ইতিহাস এমনি আমি সহ্য করতে পারি না। কিন্তু আমি তো বইটার সাইজ দেখে রীতিমত আক্কেলগুড়ুম….হয়ে গেলাম। জাফর স্যার কি সত্যি পাগল হয়ে গেল  ?? এত সব ৯ মাসে ইতিহাস কেমন করে এত ছোট করে লিখল। বইটি কিনে বাসে আসতে আসলে বইটি পড়া শেষ। আমার কাছে মনে হল না আমি কোন ইতিহাসের বই পড়েছি মনে হল আমি একটা সুন্দর রূপকথার গল্পের বই পড়লাম। গল্পের ছলে মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস ছোট মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া মনে হয় স্যারকে দ্ধারাই সম্ভব। কয়েকবার পড়লাম বইটা। আমার আবার একটা বদ অভ্যাস আছে যে বইটা ভাল লাগে এটা কয়েকবার পড়ি। আর ক্লাস সব বন্ধুদের বইটির কথা ছড়িয়ে দিতে শুরু করলাম। ক্লাস ওয়ানের বাচ্চাও এই বইটি পড়লে মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাসটি জানতে পারবে বলে আমার মনে হয়।
এই বইটি পড়তে ইচ্ছা করছে এখন তাই না। আমি নেটে কিছুক্ষন বইটির খোঁজে সার্চ দিলাম কিন্তু মন মত লিংক পেলাম না। পড়ে নিজেই আপলোড করে দিলাম মিডিয়াফায়ারে। দুটি ভার্শন দিলাম বাংলা এবং ইংরেজী টা

“মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস বইটির বাংলা ভার্শন ডাউনলোড করার জন্য উপরের ছবিটিতে ক্লিক করুন”

“ইংরেজী ভার্শন ডাউনলোড করতে উপরে ছবিতে ক্লিক করুন”
আজ অনেক দিন পর আমার পিসিতে জাতীয় সংগীতি শুনলাম
“আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি”

5 COMMENTS

  1. পতাকা পরিবর্তনের কথায় মনে পরল, আমাকে এক বন্ধু ইনভিটেশন পাঠিয়েছে সেই ১৬ই ডিসেম্বার পতাকা নিজের প্রফাইল পিকচারে রাখার জন্য। অনেকেই দেখলাম সেই ইভেন্ট এ জয়েন করেছে। আমি প্রতি বছরই রাখি। সারা বছর ট্র্যাফিক জ্যাম এ বসে বসে যখন গালি দেই আর বলি, “এই দেশের কিচ্ছু হবে না” ;কিন্তু এই একটা দিন যদি কেও মনে প্রানে শ্রদ্ধা জানাতে চায় দেশ কে, দেশের মাটিকে, সকল মুক্তিযোদ্ধাদের তাহলে অসুবিধা কি তাই না? আমি বলি কোন শ্রদ্ধা যদি পাঁচ সেকেন্ড এর জন্যও জানানো হয়, তাও তা শ্রদ্ধা। ঘটা করে প্রতিদিন না জানালেও চলে।

  2. @নি:শব্দতার ছন্দ আপু সুন্দর বলেছেন। কেউ যদি পরবতী আমাকে এই রকম প্রশ্ন করে তাহলে আপনার মন্তব্য কপি করে দিয়ে দিব।
    আসলে কিছু কিছু মানুষের দোষ ধরাটা অভ্যাসে পরিনত হয়েছে।
    কেউ ভাল করলেও দোষ খারাপ করলেও দোষ……

  3. চোখে পানি চলে আসলো ……।

    আখানে যে বইগুলোর কথা বলা হয়েছে……তার প্রত্যেকটা আমার মুখস্ত…।।:D….

    আরেকটা বই এর কথা বলতে চাই…। humayun ahmed er …… josna o jononir golpo…..না পরলে পরে দেখতে পার……:D

  4. @faiza শুনে ভাল লাগল তুমি বইগুলো পড়েছ। জোছনা জননীর গল্প বইটা আমি অনেক আগেই পড়েছি। সত্যি সুন্দর একটি বই।

Comments are closed.