আমরি বাংলা ভাষা ও একুশে ফেব্রুয়ারি……..ইতিহাস তাদের কি ভুলা যায়??

1
28

আমি কোথায় ফুল দিতে যাইনি আজ। বাসায় বসে আছি । কোন শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাব না আজ। কি খারাপ আমি তাই না। দেশের জন্য একটুকুত্ত মামতা নেই??!! আমার কি উচিত ছিল না আজ শহীদ মিনারে ফুল দেত্তয়া । কিন্তু ভাল লাগছে না যেতে।শরীরটা ও ভাল না। মাথা প্রচন্ড ব্যাথা করছে। তা না হলে যেতাম। সত্যি আমাদের দেশে এত সুন্দর তা আগে আমার নিজেরত্ত ধারনা ছিল না । বিউটিফুল বাংলাদেশে নামে তিন মিনিটের ভিডিত্তটি না দেখেলে আমি নিজে বিশ্বাস করতাম না। আসলে কেমন করেই বা জানাব। আমাদের সবার কি সেই সুযোগ আছে। কেমন যেন বদমেজাজীভাবে কাটছে দিনগুলো…….!!!থাক সেই সব কথা।

বিউটিফুল বাংলাদেশে” ভিডিত্তটি যারা দেখেনি তারা একটু দেখুন

এবার আসুন দেখি আসি সেই ইতিহাসটি

তখন অখণ্ড ভারত প্রথম দুটি ভাগে বিভক্ত ভারত ও পাকিস্তান..মূলত ধর্মের দিক থেকে

পাকিস্তান দুটি অংশ…পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান

পূর্ব পাকিস্তানই অধুনা বাংলাদেশ….

পশ্চিম পাকিস্তান গায়ের জোরে উর্দু ভাষাকে অধুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রিয় ভাষা করতে চাইলো…

সেই থেকে সংগ্রামের পথ চলা শুরু——-

বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারি …….

সমস্ত বাংলা দেশ জুড়ে মাতৃভাষার পক্ষে সরব হচ্ছে বাংলাদেশবাসী…..

ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে


সবাই জড়ো হলেন বিক্ষোভের জন্য

১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত হতে লাগলো…….

অবশেষে ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ এলোপাথারি গুলি চালালো……..

মাটিতে লুটিয়ে পড়লো অগনিত জনতা….যখম হলো বহু…..

মাতৃভাষার দাবি তে শহিদ হলেন…


রফিক,আব্দুস সালাম,বরকত, জব্বার,আবদুল আওল,ওহি উল্লাহ, এবং আরও অনেকে


ইনি…

রফিকউদ্দিন আহমদ

প্রাথমিক জীবন ও পরিবার

বাংলা ভাষা আন্দলনের প্রথম শহিদ হিসাবে ধরা হয়। ১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর জন্মগ্রহন করেন।রফিক উদ্দিনের পিতার নাম আবদুল লতিফ ও মাতার নাম রাফিজা খাতুন। তাঁর পিতা আবদুল লতিফ ছিলেন ব্যবসায়ী, কলকাতায় ব্যবসা করতেন। রফিকউদ্দিনের শৈশবের পড়ালেখা শুরু কলকাতার ‘মিত্র ইনস্টিটিউটে’। এরপরে মানিকগঞ্জের ‘বায়রা স্কুলে’। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর রফিকউদ্দিনের পিতা ঢাকায় চলে আসেন। এখানে বাবুবাজারে আকমল খাঁ রোডে পারিল প্রিন্টিং প্রেস নামে ছাপাখানা চালু করেন। বায়রা স্কুল থেকে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিক পাস করে রফিকউদ্দিন মানিকগঞ্জ ‘দেবেন্দ্রনাথ কলেজে’ বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। আই.কম. ক্লাস পর্যন্ত পড়লেও পরে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকায় এসে পিতার সঙ্গে প্রেস পরিচালনা করতে শুরু করেন। পরে আবার জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজের ছাত্র ছিলেন।

বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে

বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে রফিক অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেল প্রাঙ্গনে পুলিশ গুলি চালালে সেই গুলি রফিকউদ্দিনের মাথায় লাগে। গুলিতে মাথার খুলি উড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মেডিকেল হোস্টেলের ১৭ নম্বর রুমের পূর্বদিকে তার লাশ পড়ে ছিল। ছয় সাত জন ধরাধরি করে তার লাশ এনাটমি হলের পেছনের বারান্দায় এনে রাখেন। তাদের মাঝে ডাঃ মশাররফুর রহমান খান রফিকের গুলিতে ছিটকে পড়া মগজ হাতে করে নিয়ে যান

মৃত্যু পরবর্তী

রাত তিনটায় সামরিক বাহিনীর প্রহরায় ঢাকার আজিমপুর গোরস্তানে শহীদ রফিকের লাশ দাফন করা হয়।
তাঁর শহীদ স্মৃতি উত্তরকালে পূর্ববঙ্গবাসীদের মনে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এই চেতনার ভিত্তিতেই সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে স্বাধীনবাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

 




ইনি…

শফিউর রহমান

শফিউর রহমান (জানুয়ারী ২৪, ১৯১৮-ফেব্রুয়ারি ২২ ,১৯৫২) মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। তাঁর শহীদস্মৃতি পরবর্তীকালে বাঙালি জাতিকে জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। এ চেতনার বলেই ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

সংক্ষিপ্ত জীবনী

শফিউর রহমান বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোন্নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাহবুবুর রহমান ছিলেন ঢাকার পোস্ট এন্ড টেলিগ্রাফ অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট। কলকাতা গভর্ণমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজ হতে আই.কম. পাস করে শফিউর রহমান চব্বিশ পরগনা সিভিল সাপ্লাই অফিসে কেরানীর চাকরি গ্রহণ করেন। ১৯৪৫ সালে কলকাতার তমিজউদ্দিনের কন্যা আকিলা খাতুনের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। দেশ বিভাগের পর পিতার সঙ্গে ঢাকায় এসে ঢাকা হাইকোর্টে হিসাব রক্ষণ শাখায় কেরানী পদে যোগ দেন।

যেভাবে শহীদ হলেন

১৯৫২‌-র ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটার দিকে ঢাকার রঘুনাথ দাস লেনের বাসা থেকে সাইকেলে চড়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল সাড়ে দশটার দিকেনওয়াবপুর রোডে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ গুলি করলে গুলি শফিউর রহমানের পিঠে এসে লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর শরীরে অস্ত্রোপ্রচার করা হয়। অস্ত্রোপ্রচার সফল না হওয়ায় ঐদিন সন্ধ্যা সাতটায় মৃত্যুবরণ করেন।



ইনি…আবদুস সালাম

জন্মঃ ১৯২৫ লক্ষ্মণপুর গ্রাম, ফেনী; মৃত্যুঃ এপ্রিল ৭, ১৯৫২) মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ। ভাষা রক্ষায় তাঁর অসামান্য ভূমিকা ও আত্মাহুতির কারণেই পরবর্তীকালে বাঙালি জাতিকে জাতীয় চেতনায় উজ্জ্বীবিত ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। এ চেতনার ফলেই ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমেবাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়

পরিবার ও কর্মজীবন

তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ ফাজিল মিয়া। আবদুস সালাম কর্মজীবনে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগের ‘পিয়ন’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঢাকার নীলক্ষেত ব্যারাকের ৩৬বি নং কোয়ার্টারে বাস করতেন।

ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ

বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বায়ান্নোর ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ এলোপাথাড়িভাবে গুলি চালালে আবদুস সালাম গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ এপ্রিল, ১৯৫২ তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সম্মাননা

  • মহান ভাষা আন্দোলনে আবদুস সালাম অনবদ্য ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০০০ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করেন।
  • ফেনী স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে ২০০০ সালে ‘ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়ামে’ রূপান্তর করা হয়।
  • দাগনভুঞা উপজেলা মিলনায়তনকে ২০০৭ সালে ‘ভাষা শহীদ সালাম মিলনায়তন’ করা হয়।
  • তাঁর নিজ গ্রাম লক্ষ্মণপুরের নাম পরিবর্তন করে ‘সালাম নগর’ রাখা হয়।

ইনি…আবদুল জব্বার

আবদুল জব্বার (জন্মঃ ২৬ আশ্বিন ১৩২৬ বাংলা, ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ, পাঁচাইর গ্রাম, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ জেলা; মৃত্যুঃ ২১শে ফেব্রুয়ারি,১৯৫২, ঢাকা) ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ।

প্রাথমিক জীবন

স্থানীয় ধোপাঘাট কৃষিবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যয়নের পরে দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে পিতাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেন আবদুল জব্বার। পনের বছরে নিজ খেয়ালে সবার অজান্তে গৃহত্যাগ করেন। নারায়ণগঞ্জে এসে সেখানে জাহাজ ঘাটে এক ইংরেজ সাহেবের সান্নিধ্যে আসেন। সাহেব তাঁকে একটি চাকরি দিয়ে বার্মায় (বর্তমানঃ মায়ানমার) পাঠান। সেখানে দশ-বারো বছর অবস্থান করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

আবদুল জব্বারের পিতার নাম হাসান আলী এবং মায়ের নাম সাফাতুন নেছা। তাঁর অন্য ভাইদের নাম হচ্ছে – আবদুল কাদের ও এ,এইচ,এম আসাদ (নয়ন)। বার্মা থেকে দেশে ফিরে এসে আমেনা খাতুন নামে এক যুবতীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। আমেনা-জব্বার দম্পতির নূরুল ইসলাম বাদল নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীকালে জব্বারের মৃত্যুর পর আমেনা খাতুনকে বিয়ে করেন তার সহোদর আবদুল কাদের। আমেনা-কাদের দম্পতির রফিকুল্লাহ্, আতিকুল্লাহ্ ও রাশেদা খাতুন নামে তিন সন্তান রয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে হৃদরোগজনিত কারণে বিনা চিকিৎসায় মারা যান আমেনা খাতুন।

ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ

আজিমপুর কবরস্থানে আবদুল জব্বারের কবরে নামফলক

আবদুল জব্বারের পুত্র জন্ম হওয়ার কিছুকাল পরে তার শাশুড়ি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। শাশুড়িকে নিয়ে ১৯৫২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী ঢাকায় আসেন। হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে আবদুল জব্বার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রদের আবাসস্থল (ছাত্র ব্যারাক) গফরগাঁও নিবাসী হুরমত আলীর রুমে (২০/৮) উঠেন। ২১ ফেব্রুয়ারিআন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হলে, কি হয়েছে দেখবার জন্য তিনি রুম থেকে বের হয়ে আসেন। তখনই পুলিশ গুলি শুরু করে এবং জব্বার আহত হন। ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জব্বারকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে যারা হাসপাতালে নিয়ে যান, তাদের মধ্যে ছিলেন ২০/৯ নম্বর কক্ষের সিরাজুল হক।

সম্মাননা

মহান ভাষা আন্দোলনে অনবদ্য ভূমিকা রাখায় আবদুল জব্বারকে বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করেন।

 


ইনি…আবুল বরকত

আবুল বরকত (জন্মঃ জুন ১৩, ১৯২৭ বাবলা গ্রাম, ভরতপুর, মুর্শিদাবাদ; মৃত্যুঃ ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ।

শিক্ষাজীবন

আবুল বরকতের পিতার নাম মরহুম শামসুদ্দিন। তাঁর জন্ম অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুর্শিদাবাদ (বর্তমানে ভারতের একটি জেলা) জেলার ভরতপুর থানার বাবলা গ্রামে। শহীদ বরকত সেখানকার় তালিবপুর হাইস্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে মেট্রিক এবং বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে আই.এ পাস করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সালে মুর্শিদাবাদ ত্যাগ করে ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে চতুর্থ হয়ে বি.এ. অনার্স পাস করেন। অতঃপর স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন।

ভাষা আন্দোলন

বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ গুলি চালালে হোস্টেলের ১২ নম্বর শেডের বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন আবুল বরকত। ঢাকা মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি অবস্থায় রাত আটটার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যু পরবর্তী

২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালের রাতে আবুল বরকতের আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আজিমপুর গোরস্তানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সালাম, রফিক, জব্বার, শফিক প্রমূখ শহীদদের অন্যতম তিনি।

ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে আবুল বরকতের কবর।

সম্মাননা

মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগের জন্য ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার শহীদ বরকতকে একুশে পদক প্রদান করে।


পরের ছবিটি ক্রন্দন রত বরকতের পিতা মাতা….


বরকতের শেষ উক্তি…“গুলি লেগেছে,বড় ঠাণ্ডা লাগছে…..”

পরের দিন নিস্তব্ধ ঢাকা ইউনিভাসিটি….


আমতলা,আর্টস বিল্ডিং,ঢাকা ইউনিভাসিটি

২১ ও ২২শে ফেব্রুয়ারি১৯৫২ সালে ঢাকার রাজপথে অগণিত জনতার স্বতঃস্ফুর্ত সমাবেশের চি্ত্র দেখুন


প্রথম ভাষা শহিদ মিনার ২৪শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে সম্পূর্ণ হয়,

এটি তৈরী হবার ৭২ঘন্টার মধ্যেই পাকিস্তানি পুলিশ ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেয়….

আমি(বাংলা ভাষা)তোমাদের (ভাষা শহিদদের)সেলাম জানাই….

দূর্গম গিরি তোমরাই জয় করে দেখিয়েছো…সাবাশ…মাতৃভাষার হোক জয়…

অবশেষে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ….

একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়

ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে……


অবশেষে মাতৃভাষা শহিদরা সমগ্র পৃথিবী জুড়ে মানব হৃদয়ে স্থান করে নিলো…….আমার (বাংলা ভাষার)আত্মা পেলো শান্তি…

শত শহিদের রক্ত রাঙানো আমার (বাংলা ভাষার)এই জীবন…….

এতো সংগ্রামের পথ ধরে আমি আজ মুক্ত…..

সত্যিই কি মুক্ত…?

আমার ভাইয়ের রক্তে। গানটি সবাই শুনেছে । যখন গানটি শুনি তখন মনে হয় খুব সকালে গালি পায়ে একদল তরুন-তরুনী শহীদ মিনারে যাচ্ছে……

গানঃ আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
শিল্পীঃ সমবেত সংগীত
সুরকারঃ শহীদ আলতাফ মাহমুদ
গীতিকারঃ আব্দুল গাফফার চৌধুরী
আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়ায়ে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।

জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা
শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা,
দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবী
দিন বদলের ক্রান্তিলগ্নে তবু তোরা পার পাবি?
না, না, না, না খুন রাঙা ইতিহাসে শেষ রায় দেওয়া তারই
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।

সেদিনও এমনি নীল গগনের বসনে শীতের শেষে
রাত জাগা চাঁদ চুমো খেয়েছিল হেসে;
পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা অলকনন্দা যেন,
এমন সময় ঝড় এলো এক ঝড় এলো খ্যাপা বুনো।।

সেই আঁধারের পশুদের মুখ চেনা,
তাহাদের তরে মায়ের, বোনের, ভায়ের চরম ঘৃণা
ওরা গুলি ছোঁড়ে এদেশের প্রাণে দেশের দাবীকে রোখে
ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত এই সারা বাংলার বুকে
ওরা এদেশের নয়,
দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়
ওরা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শান্তি নিয়েছে কাড়ি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।

তুমি আজ জাগো তুমি আজ জাগো একুশে ফেব্রুয়ারি
আজো জালিমের কারাগারে মরে বীর ছেলে বীর নারী
আমার শহীদ ভায়ের আত্মা ডাকে
জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাটে
দারুণ ক্রোধের আগুনে আবার জ্বালবো ফেব্রুয়ারি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।

সহায়ক-

উৎস-১

ছবি সহায়ক- গুগল মামা.. ও উৎস -১
উৎস -২ উইকিপিডিয়া

1 COMMENT

Comments are closed.